পরিকাঠামো উন্নয়নের দোহাই!
পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য যে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হত, তা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বিধানসভায় একটি বিল পেশ করে ঘোষণা করেন যে, রাজ্যের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নত হয়েছে, ফলে শিল্পের জন্য এই বিশেষ আর্থিক সুবিধার আর প্রয়োজন নেই।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলিতে শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হত। কিন্তু এই ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বুধবারের বিধানসভা অধিবেশনে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এক সময় রাজ্যের শিল্প-পরিকাঠামো দুর্বল ছিল, তখন শিল্পপতিদের আকৃষ্ট করতে এই অতিরিক্ত অনুদান দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলায় শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সড়ক যোগাযোগ এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত সুবিধার উন্নতি হওয়ায় এখন আর সেই বাড়তি আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
শিল্পোন্নয়নে নতুন পথের সন্ধান
বাম শাসনের সময় থেকেই শিল্পোন্নয়নের জন্য এই বিশেষ ‘ইনসেনটিভ’ দেওয়া হত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি বলেন, “সিপিএম আমলে শিল্পোন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এখন রাজ্যে বিনিয়োগ আসছে, শিল্পের পরিকাঠামোও অনেক উন্নত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। তাই কোথায় টাকা ব্যয় করা হবে, তা নির্ধারণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান যে, রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা শিল্পের নতুন দিশা নিয়ে পরিকল্পনা করবে। মমতা বলেন, “২০ বছর আগের পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতির মধ্যে অনেক পার্থক্য। আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তাই এই বিল আনা হল। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।”
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিধানসভায় বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিরোধী দলের বক্তব্য, অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা তুলে নেওয়া হলে নতুন বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে আসতে আগ্রহী হবেন না। তাদের অভিযোগ, পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিরোধীদের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প স্থাপনের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে আরও বেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যেত।
তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিল্প বিকাশে কোনো বাধা আসবে না। বরং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আরও সুষ্ঠুভাবে শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের মতে, শিল্প বিকাশের জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং সেই লক্ষ্যে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হবে।
শিল্প ভবিষ্যৎ কোন পথে?
রাজ্যে শিল্প উন্নয়নের ভবিষ্যৎ এখন নতুন নীতির উপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত অনুদান বন্ধ হলেও সরকার পরিকাঠামো ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা করবে বলে জানা গেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের নতুন শিল্প নীতি বিনিয়োগকারীদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে এবং পশ্চিমবঙ্গের শিল্পোন্নয়নে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ! নুসরতের সই জাল, কী বলছেন প্রযোজকরা?