পরমাণু শক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম মেধার নতুন দিগন্ত

পরমাণু শক্তির মাধ্যমে নতুন দিগন্ত গুগ্‌ল ও মাইক্রোসফ্‌টের মতো প্রযুক্তির জায়ান্টরা এখন কৃত্রিম মেধার (এআই) জন্য শক্তির নতুন উৎসের সন্ধানে। তারা এখন পরমাণু শক্তির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। এর পিছনে…

October 22, 2024
1 min read

পরমাণু শক্তির মাধ্যমে নতুন দিগন্ত

গুগ্‌ল ও মাইক্রোসফ্‌টের মতো প্রযুক্তির জায়ান্টরা এখন কৃত্রিম মেধার (এআই) জন্য শক্তির নতুন উৎসের সন্ধানে। তারা এখন পরমাণু শক্তির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। এর পিছনে মূল কারণ হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্রগুলোকে সচল রাখতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক কোটি ডলারের চুক্তি করে পরমাণু বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আমেরিকার বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

গুগ্‌ল জানিয়েছে, তারা ‘কায়রস পাওয়ার’ নামক একটি সংস্থা থেকে পরমাণু বিদ্যুৎ কিনবে। এই বিদ্যুৎটি তারা তাদের কৃত্রিম মেধার উন্নতিতে ব্যবহার করবে। গুগ্‌লের শক্তি ও জলবায়ু দফতরের সিনিয়র ডিরেক্টর মাইকেল টেরেল বলেন, “আমাদের এ ধরনের পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎসের প্রয়োজন, যা এআই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।” তিনি আরও জানান, পরমাণু শক্তি তাদের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাতে পাবেন তারা।

গুগ্‌ল ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম পরমাণু চুল্লি পাবে বলে আশা করছে। অন্যদিকে, মাইক্রোসফ্‌টও ইতিমধ্যে আমেরিকার ‘কনস্টেলেশন’ নামক বিদ্যুৎ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে। তাদের লক্ষ্য হল, থ্রি মাইল দ্বীপের একটি বন্ধ চুল্লিকে পুনরায় চালু করে সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা।

অবশ্য, পরমাণু শক্তির দিকে যাওয়ার পথে এই প্রযুক্তি সংস্থাগুলির চ্যালেঞ্জ কম নয়। প্রচলিত শক্তি ব্যবহারের ফলে কার্বণ নিঃসরণের পরিমাণ বাড়ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ। আবার, শক্তির অফুরন্ত জোগান ছাড়া ‘ক্লাউড কম্পিউটিং’ ও ‘এআই অ্যাপ্লিকেশন’-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রতি ১০ থেকে ৫০ প্রম্পটের জন্য ৫০০ মিলিলিটার জল প্রয়োজন হয়। এই পরিসংখ্যান থেকে পরিষ্কার যে, কৃত্রিম মেধা চালাতে গেলে শুধু বিদ্যুতেরই নয়, জলও প্রয়োজন।

পরিবেশবিদদের মধ্যে অনেকেই পরমাণু শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা মনে করেন, পরমাণু শক্তি একটি বিপজ্জনক প্রযুক্তি এবং এটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির বিকল্প নয়। গ্রিনপিসের মতে, “পরমাণু শক্তি অবিশ্বাস্যভাবে ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক।”

অতএব, গুগ্‌ল ও মাইক্রোসফ্‌টের মতো প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যে পরমাণু শক্তির দিকে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে একটি নতুন এবং বিতর্কিত অধ্যায় শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এআই এবং শক্তির সংযোগ কীভাবে রূপ নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

4o mini

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *