ভারতে হসপিটালিটি শিক্ষার নতুন দিগন্ত!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আজ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি শিল্পক্ষেত্রের কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। হসপিটালিটি শিল্পও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এই ক্ষেত্রের মূল শক্তি এখনও মানুষের আন্তরিকতা, সেবা এবং অতিথিপরায়ণতা। প্রযুক্তি ও মানবিকতার এই ভারসাম্যকে সামনে রেখেই ভারতের অন্যতম শীর্ষ হসপিটালিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট (IIHM) নতুন যুগের শিক্ষা মডেল গড়ে তুলছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে IIHM শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা নয়, বরং বিশ্বমানের নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করে আসছে। ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরে ক্যাম্পাস বিস্তার করে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে।
IIHM-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরামর্শদাতা সুবর্ণ বসু মনে করেন, ভবিষ্যতের হসপিটালিটি শিক্ষা হবে মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের উপর ভিত্তি করে। তাঁর কথায়, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি করা জরুরি যাতে তারা AI-কে সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারে, একই সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধও ধরে রাখতে পারে।
AI জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগেই IIHM তাদের পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, হসপিটালিটি প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ‘NamAIste Hospitality GPT’-এর মতো বিশেষ AI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাস্তবমুখী শিক্ষা পাচ্ছে। এটি হসপিটালিটি শিল্পের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম জেনারেটিভ AI-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি ‘GreenRout Sustainable Travel GPT’ এবং ‘SDG GPT Builder’-এর সাহায্যে শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যার সমাধান ও টেকসই উন্নয়নের নতুন ধারণা তৈরির প্রশিক্ষণও নিচ্ছে।
AI শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করতে কলকাতার IIHM গ্লোবাল ক্যাম্পাসে চালু হয়েছে ‘AI-LEAP’ (National AI Literacy Education Acceleration Program)। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে AI সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানো।
শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার উপরও বিশেষ জোর দেয় IIHM। শিক্ষার্থীরা ফ্রন্ট অফিস, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সার্ভিস, হাউসকিপিং এবং ফুড প্রোডাকশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পায়। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দেশে শিক্ষামূলক সফরের সুযোগ তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করে।
প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি বড় আকর্ষণ হল ইন্টারন্যাশনাল ইয়ং শেফ অলিম্পিয়াড, যেখানে ৬০টিরও বেশি দেশের তরুণ শেফরা অংশ নেন। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বব্যাপী রন্ধনশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে স্বীকৃত।
IIHM-এর শিক্ষার্থীরা শুধু ভারতেই নয়, নিউ জিল্যান্ড, ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশেও আকর্ষণীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই পড়াশোনা শেষ করেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার শুরু করছেন।
নামী শেফ রণবীর ব্রার ও সঞ্জীব কাপুর-এর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সরাসরি কাজ ও শেখার সুযোগও শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে।
প্রযুক্তি যখন দ্রুত ভবিষ্যৎকে বদলে দিচ্ছে, তখন IIHM প্রমাণ করছে যে সফল হসপিটালিটি পেশাজীবী হতে শুধু AI জানলেই হবে না; প্রয়োজন সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, মানবিকতা এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা। এই দর্শনই প্রতিষ্ঠানটিকে ভারতের হসপিটালিটি শিক্ষার অন্যতম অগ্রণী নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?