এআইয়ের দৌলতে কোষাগারে বাড়ছে আয়!
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং প্রযুক্তির বিশ্বজোড়া চাহিদা থেকে বিপুল অর্থনৈতিক লাভ করছে তাইওয়ান। সেই আর্থিক বৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সরকার। প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০২৭ সালে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের হাতে পৌঁছতে পারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
কত টাকা পাবেন নাগরিকেরা?
তাইওয়ান সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিককে এককালীন ১০,০০০ নিউ তাইওয়ান ডলার দেওয়া হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা। তবে এখনও এই অর্থ বিতরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০২৭ সালের বাজেটের অংশ হিসাবে প্রস্তাবটি আইনসভায় অনুমোদিত হলেই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দেশ | তাইওয়ান |
| প্রস্তাবিত অর্থ | ১০,০০০ নিউ তাইওয়ান ডলার |
| ভারতীয় মুদ্রায় | আনুমানিক ৩০,০০০ টাকা |
| সম্ভাব্য বছর | ২০২৭ |
| অর্থ দেওয়ার কারণ | অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুফল নাগরিকদের মধ্যে ভাগ |
| প্রধান চালিকা শক্তি | এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটিং শিল্প |
| প্রকল্পের নাম | ‘এআই ডিভিডেন্ড’ |
কেন এমন সিদ্ধান্ত?
তাইওয়ান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদক। এআই সার্ভার, উন্নত চিপ এবং উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং ব্যবস্থার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির প্রযুক্তি শিল্পে রফতানি ও ব্যবসা দু’ই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।
সরকারের বক্তব্য, এই প্রবৃদ্ধির সুবিধা শুধুমাত্র বড় প্রযুক্তি সংস্থা বা কর্পোরেট ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। রাজস্ব বৃদ্ধির একটি অংশ সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘এআই ডিভিডেন্ড’-এর পরিকল্পনা।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বাড়তি রাজস্ব থেকেই এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এর জন্য নতুন করে ঋণ নেওয়া বা অন্য সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ কমানোর প্রয়োজন হবে না বলেই দাবি করা হয়েছে।
অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হয়েছে?
২০২৬ সালের প্রথম ছ’মাসে তাইওয়ানের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৪.১৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে গোটা বছরের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে সরকার। আগে ৯.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হলেও তা সংশোধন করে ১১.০৫ শতাংশ করা হয়েছে।
এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে কয়েক দশকের মধ্যে তাইওয়ানের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ দেখা যেতে পারে। এআই-নির্ভর প্রযুক্তি শিল্পের দ্রুত বিকাশ তার অন্যতম কারণ।
বিরোধীদের আপত্তি কোথায়?
সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি অতীতে একই ধরনের নগদ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল। এখন রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যেই তারা অবস্থান বদলেছে বলে দাবি বিরোধীদের।
তাদের মতে, ভোটের আগে সাধারণ মানুষের মন জয় করতেই এমন জনমোহিনী পরিকল্পনা সামনে আনা হয়েছে। সরকারের অবশ্য বক্তব্য, এটি কোনও ‘খয়রাতি’ নয়; দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক সাফল্যের অংশীদার হিসাবে নাগরিকদের লভ্যাংশ দেওয়ার উদ্যোগ।
আইনসভায় ২০২৭ সালের বাজেট অনুমোদিত হলে পরিকল্পনাটি বাস্তব রূপ পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের চন্দ্র নববর্ষের আগেই তাইওয়ানের নাগরিকদের হাতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
আগেও নগদ সুবিধা দিয়েছে তাইওয়ান
তাইওয়ানে এর আগে পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সন্তান জন্মের ক্ষেত্রেও সরকারি ভর্তুকি রয়েছে। একটি সন্তানের জন্মের জন্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা সমমূল্যের সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে বলে সরকারি প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে। যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে সেই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ে।
অর্থাৎ, এআই ও চিপ শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে এক দিকে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং অন্য দিকে তার সুফল সরাসরি নাগরিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এখন লাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।