পঁচিশ বছর পর একই ফ্রেমে দুই কিংবদন্তি!
বাংলা ছবির দর্শকের কাছে এ যেন এক নস্টালজিয়ার মুহূর্ত। প্রায় পঁচিশ বছর পর আবার একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে চন্দ্রাশিস রায়ের ছবি বিজয়গড়ের হীরে—সেখানেই মুখোমুখি বাংলার এই দুই স্তম্ভ।
এই ছবিতে চিরঞ্জিৎকে দেখা যাবে এক ঊর্ধ্বতন অফিসারের চরিত্রে, যিনি রহস্যভেদের দায়িত্ব দেন প্রসেনজিতের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র কাকাবাবুকে। গল্পে দু’জনের উপস্থিতি টুকরো টুকরো হলেও, তাঁদের দৃশ্যগুলি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয়। চিরঞ্জিতের কথায়, “আমিই কাকাবাবুকে ডেকে আনছি রহস্যের কিনারায় পৌঁছনোর জন্য। পর্দায় অনেক দিন পর আমি আর প্রসেনজিৎ—এই ভাবনাটাই আলাদা রকমের।”
এই পুনর্মিলন কেমন অনুভূতির? প্রশ্ন শুনে অভিনেতার কণ্ঠে উষ্ণতা, “খুব মিষ্টি সময়। এত বছর পর দেখা, কিন্তু কোনও প্রতিযোগিতা নেই। এখন আমরা শুধু গল্প করি। শুটিংয়ের আগে মুম্বইয়ে বুম্বার বাড়িতে উঠেছিলাম। আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া—সব মিলিয়ে পুরনো দিনের স্মৃতি যেন ফিরে এসেছিল। তার পর একসঙ্গে হাম্পিতে শুটিং।”
গত বছরটা চিরঞ্জিতের কেরিয়ারে ছিল ব্যস্ততায় ভরা। একের পর এক ছবি ও সিরিজ়ে তাঁকে দেখা গিয়েছে। ২০২৬-ও শুরু হচ্ছে একই ছন্দে। ‘বিজয়গড়ের হীরে’র পাশাপাশি একই দিনে মুক্তি পাচ্ছে সিরিজ় নিকষ ছায়া ২। এই সিরিজ়ে আবারও তান্ত্রিক-অধ্যাপক ভাদুড়িমশাইয়ের চরিত্রে চিরঞ্জিৎ। পরিচালনায় রয়েছেন সায়ন্তন ঘোষাল।
এই পর্বে পরিচালকের বদলও এক নতুন অভিজ্ঞতা। আগের দুই পর্বের তুলনায় কাজটা আরও ঝরঝরে হয়েছে বলেই মনে করছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “অনেকে ট্রেলার দেখেই বলছেন, এ বার সিরিজ়টা আরও ঝকঝকে। আমিও আগের দু’টো পর্ব করে চরিত্রটার সঙ্গে আরও স্বচ্ছন্দ হয়ে গিয়েছি।”
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও ছিল আলাদা। গভীর রাতের অন্ধকারে, জনমানবহীন এলাকায় কাজ করতে গিয়ে প্রথমে খানিক গা ছমছম করেছিল তাঁরও। “আমি নিজেকে ভয়ডরহীন বলি, তবু অচেনা অন্ধকারে শুটিং করতে গিয়ে মনে হয়েছিল—দিনে করলে মন্দ হত না,” হাসতে হাসতে স্বীকার করেছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় চিরঞ্জিৎ। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটে লড়াই করবেন কি না—সে প্রশ্নের উত্তর আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, প্রতিযোগিতার যুগ পেরিয়ে আজ বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা আর গল্পের জায়গা থেকেই ফিরছেন চিরঞ্জিৎ ও প্রসেনজিৎ। দর্শকের জন্য এই পুনর্মিলন নিঃসন্দেহে এক আবেগের উৎসব।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি