নেশা ছাড়ানোর নামে রোগীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ! বারুইপুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভাঙচুর

রোগীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ! দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে মারধর করে খুন করার অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া মারধরের ফলে…

November 30, 2024
0 min read

রোগীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক রোগীকে মারধর করে খুন করার অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া মারধরের ফলে এক রোগী, সৌরভ মণ্ডল নামে দক্ষিণ গড়িয়া এলাকার বাসিন্দা, গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা যান। এরপর, মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা নেশামুক্তি কেন্দ্রে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সৌরভ মণ্ডল গত দেড় বছর ধরে বারুইপুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে অত্যন্ত অমানবিকভাবে মারধর করা হচ্ছিল। মারধরের চোটে অসুস্থ হয়ে পড়লে সৌরভকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত নেশামুক্তি কেন্দ্রে চলে যান। সেখানে উত্তেজিত জনতা ক্ষোভের সঙ্গেই ভাঙচুর শুরু করে।

এই ঘটনার পর, বারুইপুর থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক ও অন্যান্যরা ওই সময় পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কাউন্সিলর অর্চনা মল্লিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ দশ বছর ধরে এই নেশামুক্তি কেন্দ্রটি কার্যক্রম চালাচ্ছিল, তবে এর মধ্যে বহুবার রোগীদের মারধর করার ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক পরিবার এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করেছি যেন পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

এছাড়া, স্থানীয় এক বাসিন্দা ঝর্না গোস্বামী অভিযোগ করেন, এই নেশামুক্তি কেন্দ্রে প্রতিদিনই গন্ডগোল হয়। রোগীদের চিৎকার এবং মারধরের আওয়াজ শোনা যায়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “আজকের ঘটনাটি নতুন কিছু নয়। আমরা প্রতিদিনই এসব ঘটনা শুনি, কিন্তু আজ এক রোগী মারা গেছেন। আমরা চাই, দোষীদের শাস্তি হোক।”

পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি, তবে তারা তদন্ত শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

এই ঘটনার পর নেশামুক্তি কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও কেন এই কেন্দ্রটি ঠিকভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যেসব রোগী ও পরিবার এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে এটি একটি বড় সতর্কতা সংকেত।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *