নিরাপত্তার প্রশ্নে দ্বৈত সুর তৃণমূলে!
পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে তাঁর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রশ্ন তুলছেন প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে। ফলে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— সরকার ও শাসকদল কি দুই ভিন্ন পথে হাঁটছে?
সোমবার মুর্শিদাবাদ রওনা হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রাজনীতি নয়। তৃণমূল ভারতের সরকারের পাশে আছে এবং থাকবে।” একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, “আমরা কোনওভাবেই বিভাজনের রাজনীতিতে যাব না।”
কিন্তু এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সামাজিক মাধ্যমে দলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দেন। রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।
সাগরিকা ঘোষ অভিযোগ করেন, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার ১৪ দিন কেটে গেলেও একজন জঙ্গিও ধরা পড়েনি। মোদী নিহত সেনাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি। অমিত শাহ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তার ব্যর্থতা স্বীকার করেননি। সর্বদলীয় বৈঠকে শাহের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, “৫৬ ইঞ্চির ছাতি কোথায় গেল?” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে ‘মন কি বাত’ এবং বন্দরের উদ্বোধনের মাঝে ব্যস্ত দেখেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা শুধু জানতে চাই, এতদিনেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন? মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেন্দ্র কিছু করলে আমরা সমর্থন করব। কিন্তু কেন্দ্র তো কিছু করছে না— সেটাই প্রশ্ন।”
এমনকি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত মুখ খোলেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি বলেন, “সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় পেরিয়ে গেছে, এবার পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর উদ্ধার করতে হবে।” এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি ‘অ্যাকশনে’ যেতে চাওয়ার বার্তাই দেন তিনি।
এই অবস্থায় রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই বিভেদ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকায় সংযত ভাষায় কথা বলেন। দল হিসেবে আমরা মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলতেই পারি।”
তবে বিজেপি এই দ্বৈত অবস্থানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল দায়িত্বজ্ঞানহীন দল। এক নেতা এক কথা বলেন, অন্য নেতা ভিন্ন কথা। এতে মানুষের আস্থা তৃণমূলের উপরে থাকবে না।”
শেষ কথা, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে একমুখী বার্তা না দিয়ে যদি দ্বৈত সুরেই তৃণমূল এগোয়, তবে রাজনৈতিক আস্থা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতেই থাকবে।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের