নিরাপত্তাই শেষ কথা: ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলতে অনড় বাংলাদেশ

ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলতে অনড় বাংলাদেশ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট— খেলতে তারা চায়, কিন্তু ভারতে নয়। বুধবার আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের পর এই বার্তাই আবার জোর গলায়…

January 23, 2026
1 min read

ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলতে অনড় বাংলাদেশ!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট— খেলতে তারা চায়, কিন্তু ভারতে নয়। বুধবার আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের পর এই বার্তাই আবার জোর গলায় শোনালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি নজরুল। তাঁর কথায়, “এই বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আমরা কঠোর পরিশ্রম করে অর্জন করেছি। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই চাইছি খেলতে। কিন্তু ভারতে আমাদের যে নিরাপত্তা-আশঙ্কা রয়েছে, তার কোনও বাস্তব পরিবর্তন হয়নি।”

নজরুল জানান, জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার মূল জায়গায় গিয়ে কোনও সমাধান মেলেনি। তাঁর দাবি, নিরাপত্তার আশঙ্কা কোনও অনুমানের উপর দাঁড়িয়ে নেই, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়েছে। নজরুল বলেন, “আমাদের এক জন সেরা ক্রিকেটারকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ভারত ছাড়তে বলেছিল। সেই দেশেই আবার বিশ্বকাপ আয়োজন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কী ভাবে নিশ্চিন্ত হব?”

আইসিসি বৈঠকে দাবি করেছিল, ভারতে খেলার ক্ষেত্রে কোনও নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে নারাজ বিসিবি। নজরুলের প্রশ্ন, “যে দেশে আগে আমাদের ক্রিকেটার নিরাপত্তা পায়নি, সেই দেশের পুলিশের হাতেই তো বিশ্বকাপের নিরাপত্তা থাকবে। এমন কী বদল হয়েছে যে, হঠাৎ করে আমরা বিশ্বাস করব— আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও সমর্থকেরা নিরাপদ থাকবেন?” তাঁর আরও অভিযোগ, এই বিষয়ে ভারত সরকার বা আইসিসির তরফে কোনও স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে আবারও বল আইসিসির কোর্টে ঠেলেছে বাংলাদেশ। নজরুলের আশা, অতীতের নজির মাথায় রেখে আইসিসি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। তাঁর কথায়, “আগেও বহু বার নিরাপত্তার কারণে বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্ট অন্য দেশে সরানো হয়েছে। আমাদের একটাই আবেদন— শ্রীলঙ্কায় খেলার অনুমতি দেওয়া হোক।”

বিশ্বকাপ বয়কট করলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে— এটা জানে বিসিবি। তবু নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করতে রাজি নয় তারা। নজরুল স্পষ্ট বলেছেন, “অর্থের থেকেও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার, সমর্থক এবং মিডিয়ার নিরাপত্তা। সব জেনেশুনে আমি আমার দলের কাউকে ঝুঁকির মুখে পাঠাতে পারি না। আর কোন দেশে খেলতে যাব, সেই সিদ্ধান্ত আমাদের সরকারের।”

নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও। তিনি মনে করিয়ে দেন, মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনাও নিরাপত্তাজনিত কারণেই হয়েছিল। আমিনুলের বক্তব্য, “আমরা আইসিসিকে পুরো ঘটনা জানিয়েছি। কিন্তু তারা বলছে, শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক নয়। বাস্তবে হাইব্রিড মডেলে কিছু ম্যাচ তো সেখানেই হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণেই যদি হাইব্রিড মডেল হয়, তা হলে আমাদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।”

আইসিসি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে— বাংলাদেশ খেলতে না চাইলে বিকল্প দলকে সুযোগ দেওয়া হবে। তবু আশাবাদী বিসিবি। আমিনুল বলেন, “বাংলাদেশ খেললে বিশ্বকাপ ২০ কোটি দর্শক পায়। আমরা মনে করি, আইসিসি এই ঝুঁকি নেবে না। আমরা চাই খেলতে, কিন্তু শ্রীলঙ্কায়।”

এখন সব নজর আইসিসির দিকে। বাংলাদেশের এই অনড় অবস্থানের পর বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *