পার্থর জামাইয়ের মুক্তি!
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় পরিবর্তন! পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য আর অভিযুক্ত নন। ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার পর আদালত তাঁকে অভিযোগের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে মামলার গতিপথ বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজসাক্ষী হওয়ার পথ এবং আদালতের রায়
কল্যাণময় প্রথম থেকেই নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। ইডির চার্জশিটেও তাঁর নাম ছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অবৈধ লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং সেই টাকার অন্যতম সুবিধাভোগীও ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেই ‘রাজসাক্ষী’ হতে ইচ্ছুক বলে আদালতে আবেদন জানান।
তদন্তের স্বার্থে ইডি তাঁর আবেদনে সাড়া দেয় এবং আদালতে অনুরোধ জানায়, কল্যাণময়ের নাম অভিযুক্তদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করল, যা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল।
কী ছিল কল্যাণময়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ?
ইডির দাবি ছিল, পার্থর কালো টাকা সাদা করার ছক জানতেন কল্যাণময়। তিনি একাধিক ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন চালাতেন এবং অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা পরিচালনা করতেন।
বিশেষ করে, ‘এইচআরআই ওয়েলথ ক্রিয়েশন রিয়েলটরস পাবলিক লিমিটেড’ নামে এক সংস্থার পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই সংস্থার মূল উদ্যোক্তা হলেও, ২০১৯ সালে এর অন্যতম ডিরেক্টর হয়ে যান কল্যাণময়।
এছাড়া, পার্থর স্ত্রীর নামে তৈরি ‘বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর সঙ্গেও কল্যাণময়ের নাম জড়িয়ে ছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি এই ট্রাস্টের মাধ্যমে কোটি টাকার অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন, যা মূলত কালো টাকা সাদা করার একটি কৌশল ছিল।
রাজসাক্ষী হওয়ায় বদলাবে মামলার মোড়?
কল্যাণময় যখন ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার জন্য আবেদন করেন, তখন থেকেই ইঙ্গিত ছিল যে তিনি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করতে পারেন। আদালতের রায় প্রমাণ করল যে, ইডি তাঁর জবানবন্দির উপর আস্থা রাখছে এবং তাঁকে মূল অভিযুক্তদের তালিকা থেকে সরিয়ে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত চালাতে চাইছে।
এতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থান আরও সংকটে পড়তে পারে, কারণ তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি সরাসরি তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। একই সঙ্গে, কল্যাণময়ের জবানবন্দি অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও নতুন প্রমাণ তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, কল্যাণময় নিজের মুক্তির জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে পারেন। আবার অনেকে মনে করছেন, এতে মামলার গতি কিছুটা হলেও বদলাবে।
এখন দেখার বিষয়, কল্যাণময়ের জবানবন্দির প্রভাব মামলার ভবিষ্যতে কতটা পড়ে এবং এর ফলে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত নতুন কোনো দিক পায় কি না।
বিচ্ছেদের পর বিশাল অঙ্কের খোরপোশ দিতে হবে যুজবেন্দ্র চহল! আদালতের রায়ে আলোড়ন