নারীদের কর্মসংস্থানে সামান্য অগ্রগতি, তবু গৃহস্থালির দায়িত্বেই কাটছে অধিকাংশ সময়

নারীদের কর্মসংস্থানে সামান্য অগ্রগতি! গত পাঁচ বছরে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও পুরুষদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের প্রকাশিত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ২০১৯…

February 26, 2025
1 min read

নারীদের কর্মসংস্থানে সামান্য অগ্রগতি!

গত পাঁচ বছরে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও পুরুষদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের প্রকাশিত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ২০১৯ সালে দেশের মাত্র ২১.৮% মহিলা কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে ২৫% হয়েছে। যদিও এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন, তবে এখনও গৃহস্থালির কাজ ও পরিবারের দেখভালেই অধিকাংশ সময় ব্যয় করছেন নারীরা।


কর্মসংস্থানে নারী-পুরুষের বৈষম্য

🔹 পুরুষদের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার – ২০১৯ সালে ৭০.৯% থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৭৫% হয়েছে।
🔹 নারীদের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার – ২০১৯ সালে ২১.৮% থেকে বেড়ে ২৫% হয়েছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, পুরুষরা গড়ে প্রতিদিন ৪৭৩ মিনিট বা ৭ ঘণ্টার বেশি সময় উপার্জনের কাজে ব্যয় করেন, যেখানে নারীরা পারেন মাত্র ৫ ঘণ্টা ৪১ মিনিট। অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁরা পুরুষদের তুলনায় কম সময় কাজ করতে পারছেন।


নারীরা এখনও সংসারের দায়িত্বে বেশি ব্যস্ত

নারীদের কর্মসংস্থানের হার বাড়লেও, সংসারের দায়িত্বের ভার এখনও তাঁদের ওপরই বেশি রয়ে গেছে।

🔸 ১৫-৫৯ বছর বয়সি নারীরা প্রতিদিন গড়ে ৩০৫ মিনিট (৫ ঘণ্টা) গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন।
🔸 ৫ বছর আগেও এই সময় ছিল ৩১৫ মিনিট। সামান্য হ্রাস পেলেও এখনো নারীদের অনেকটা সময় গৃহস্থালির কাজেই চলে যাচ্ছে।
🔸 পুরুষরা দিনে গড়ে মাত্র ৮৮ মিনিট গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন।
🔸 ৬ বছরের বেশি বয়সি ৮১.৫% নারী গৃহস্থালির কাজ করেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৭.১%।

এছাড়া, নারীরা ছেলেমেয়েদের এবং বয়স্কদের দেখাশোনায় দিনে গড়ে ১৪০ মিনিট ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষরা এই কাজে গড়ে মাত্র ৭৪ মিনিট দেন। ফলে কর্মসংস্থানে অংশ নেওয়ার পরও নারীরা দ্বিগুণ দায়িত্ব সামলাতে বাধ্য হচ্ছেন।


পড়াশোনার ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য কম

যদিও কর্মসংস্থানে লিঙ্গবৈষম্য রয়ে গেছে, তবে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে উভয়েই প্রায় সমানভাবে যুক্ত থাকছেন।

📚 ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সিদের ৮৯.৩% শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত
📚 ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে গড়ে ৬ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট করে পড়াশোনায় ব্যয় করে

এটি একটি ইতিবাচক দিক, যা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।


উপসংহার

কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের রিপোর্ট দেখাচ্ছে, নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ সামান্য বৃদ্ধি পেলেও, তাঁদের এখনও গৃহস্থালির দায়িত্ব বেশি বহন করতে হচ্ছে, যার ফলে কর্মজীবনে পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। যদিও শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীদের আরও বেশি করে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তবে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। এখন প্রশ্ন একটাই— পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা কবে গড়ে উঠবে?

শুরুতেই ছন্দহীন শামি, এক ওভারে ১১ বল! বুমরাহের রেকর্ড ভাঙলেন বাংলার পেসার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *