নায়াগ্রা থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ বাসদুর্ঘটনা!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের পেমব্রোক এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে নিউ ইয়র্কে ফিরছিল একটি পর্যটকবোঝাই বাস। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার ধারে উল্টে পড়ে যায়। শুক্রবার সকালেই ঘটে এই দুর্ঘটনা, আর তাতেই মুহূর্তে থমকে যায় গোটা অঞ্চল। পুলিশ দ্রুত রাস্তা বন্ধ করে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
সেই বাসে ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। কতজন প্রাণ হারিয়েছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে অন্তত একজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা। চালক বাসের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যর্থ হন এবং সেটি উল্টে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, বাসটির সঙ্গে অন্য কোনও গাড়ির সংঘর্ষ হয়নি। শুধু মাত্র নিয়ন্ত্রণ হারানোই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর পরই শুরু হয় তৎপর উদ্ধারকাজ। জরুরি পরিষেবা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করার চেষ্টা চলছে। অনেকে বাসের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন, তাঁদের উদ্ধার করতে দমকল ও উদ্ধারকারী দল নিরন্তর কাজ করছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাসে থাকা যাত্রীদের বেশিরভাগই পর্যটক। তাঁদের মধ্যে ভারতের, চিনের এবং ফিলিপিন্সের নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি পর্যটকদের দুর্ঘটনার খবর পৌঁছেছে তাঁদের দূতাবাসেও। সবাই উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন, ঠিক কতজন নিরাপদে আছেন আর কতজন প্রাণ হারিয়েছেন।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের প্রতিটি পদক্ষেপ তিনি নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর টিম নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। গভর্নর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আমার টিম ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পেমব্রোকের পরিবেশ নেমে আসে শোকের ছায়া। যারা আনন্দে ভ্রমণ শেষে ফিরছিলেন, তাঁদের যাত্রা শেষ হলো এক দুঃস্বপ্নে। কয়েক মুহূর্ত আগেও যাঁরা ছবি তুলছিলেন, হাসছিলেন, তাঁরাই আজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে গেলে চিৎকারে কান পাতা যাচ্ছিল না। স্থানীয় মানুষজনও ছুটে এসে আহতদের সাহায্য করার চেষ্টা করেন।
এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। কতজন বেঁচে ফিরবেন, কতজন আর ফিরবেন না— সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, জীবন কতটা অনিশ্চিত। আনন্দ ভ্রমণের পথে এক মুহূর্তেই নেমে আসতে পারে ভয়াবহ অন্ধকার।
জমি কেনার নামে শত কোটির সম্পত্তি দখলের চেষ্টা? বাঁকে বিহারী মন্দিরকে ঘিরে উত্তাপ