পরিস্থিতি সামলাতে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে কমিটি গঠন Yogi Adityanath-এর!
নয়ডার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াতেই দ্রুত পদক্ষেপ করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া এবং সমস্যার সমাধানে মালিক ও শ্রমিক—দু’পক্ষকেই নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath।
সোমবার সকালে নয়ডার ফেজ় ২ এলাকায় পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, এমনকি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এর জেরে দিল্লি-নয়ডা সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছয়। বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই অশান্তির মধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন শিল্প উন্নয়ন কমিশনারের নেতৃত্বে শীর্ষ আমলারা। পাশাপাশি ছোট, মাঝারি ও কুটির শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং শ্রম দফতরের প্রধানসচিবও যুক্ত থাকবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই কমিটিতে শুধু প্রশাসন নয়—শ্রমিক সংগঠন এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। শ্রমিক সংগঠন থেকে পাঁচ জন এবং মালিকপক্ষ থেকে তিন জন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা যায়।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা অত্যন্ত কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকারও কম, অথচ দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত সময় কাজ করলে যথাযথ ‘ওভারটাইম’ পারিশ্রমিক দিতে হবে এবং বেতন বাড়াতে হবে। এই দুই দাবিকেই কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়তে বাড়তেই রাস্তায় নামে শ্রমিকেরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্দোলনের নামে হিংসা বা ভাঙচুর বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কেও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের উপযুক্ত বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রতিটি শিল্প সংস্থার দায়িত্ব।
শিল্পাঞ্চলের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, শ্রম আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং কর্মীদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। রাজ্যের শ্রম দফতরকেও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নয়ডার এই অশান্তি শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়—এটি শ্রমিক অধিকার ও শিল্প সম্পর্কের এক বড় পরীক্ষা। নতুন গঠিত কমিটি পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর সবার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?