‘দেখি তুমি পাশ করো কী করে!’ — নইডার ডেন্টাল কলেজে ছাত্রীকে হুমকির অভিযোগ, অভিযুক্ত অধ্যাপক গ্রেপ্তার

নইডার ডেন্টাল কলেজে ছাত্রীকে হুমকির অভিযোগ! উচ্চশিক্ষা যেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ, সম্মানজনক পরিবেশ দেওয়ার কথা, সেখানে উত্তরপ্রদেশের এক নামী ডেন্টাল কলেজে ঘটল ঠিক উলটো ঘটনা। অভিযোগ, কলেজের এক অধ্যাপক পরীক্ষায় পাশ…

July 20, 2025
1 min read

নইডার ডেন্টাল কলেজে ছাত্রীকে হুমকির অভিযোগ!

উচ্চশিক্ষা যেখানে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ, সম্মানজনক পরিবেশ দেওয়ার কথা, সেখানে উত্তরপ্রদেশের এক নামী ডেন্টাল কলেজে ঘটল ঠিক উলটো ঘটনা। অভিযোগ, কলেজের এক অধ্যাপক পরীক্ষায় পাশ করানোর নাম করে এক ছাত্রীকে দিনের পর দিন মানসিক হেনস্তা করেছেন, এমনকি হুমকিও দিয়েছেন। ছাত্রীর অভিযোগে যেভাবে বিষয়টি সামনে এসেছে, তাতে ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি আদৌ নিরাপদ?

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বৌদ্ধ নগরের সেক্টর ৪৯-এ অবস্থিত একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে। কলেজটির এক প্রফেসরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে অশালীন মন্তব্য করতেন, হুমকি দিতেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করতেন।


👩‍⚕️ ছাত্রী যা জানালেন…

ছাত্রীটি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অধ্যাপক একদিন তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“দেখি তুমি কীভাবে পাশ করো! যতক্ষণ না আমি চাই, তুমি পাশ করতে পারবে না।”

এই কথায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অধ্যাপক তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন এবং খারাপ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁর মোবাইল নম্বর একাধিক ছাত্রের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি বিরক্ত হন।

বাধ্য হয়ে শেষমেশ ছাত্রীর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত।


👮 অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নইডার সেক্টর ৪৯ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অধ্যাপক মহম্মদ শারিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ (আশঙ্কাজনক হুমকি) ও ৫৪৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারাতেও মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে আপাতত হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।


🏫 কলেজ কতৃপক্ষ কী বলছে?

কলেজ কতৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত প্রফেসরের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ছাত্রী যখন বারবার অভিযোগ করছিলেন, তখন কলেজ কেন আগে থেকে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি?


📣 সমাজের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় নেটমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বহু মানুষ বলছেন, এ ধরনের আচরণ শুধু একজন ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার উপর আঘাত।

শিক্ষা মানে তো শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষা মানে একজন মানুষকে সম্মান, সাহস আর মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া। সেই জায়গাটাই যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কার কাছে যাবেন?


🔚 উপসংহার

এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—শিক্ষার মঞ্চে এখনও বহু অন্ধকার কোণ রয়ে গিয়েছে। সেগুলি প্রকাশ্যে আনা এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া না গেলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধুই ডিগ্রি বিতরণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

শিক্ষার মন্দিরে নিরাপত্তাহীনতা! দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে পুলিশ পিকেট চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ অধ্যাপকরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *