বললেন— শিল্পীদের তারিখে বেঁধে রাখা অন্যায়
বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক শান ফের আলোচনায়। তবে এ বার গান নয়, শিল্পীদের প্রতি মানুষের মানসিকতা নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন তিনি। মুম্বইয়ে আসন্ন কনসার্টের প্রস্তুতির ফাঁকেই নিজের অভিজ্ঞতা এবং ক্ষোভের কথা জানালেন শ্রোতা ও সমালোচকদের উদ্দেশে।
সমাজমাধ্যমের যুগে পুরনো গানই হোক বা ভিডিও, নতুন প্রজন্ম বারবার ফিরিয়ে আনছে সেগুলিকে। এর ফলে নব্বইয়ের দশকের শানের অসংখ্য গান আবারও ভাইরাল হয়ে উঠছে, তৈরি হচ্ছে নতুন শ্রোতাদের ভিড়। এতে খুশি তিনি, তবে একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ— আজও তাঁকে এবং তাঁর সমসাময়িক গায়কদের অনেক সময় শুধু ‘নব্বইয়ের গায়ক’ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শান বলেন, “আমাদের অনেক সময় একটা তারিখের গণ্ডিতে বেঁধে দেওয়া হয়। আমাদের গলা শুনলেই বলা হয়— নব্বইয়ের গানের মতো লাগছে। অথচ এটা পুরোপুরি একটা মানসিকতা। যদি উদিতজি এখন কোনও সমসাময়িক গানে কণ্ঠ দেন, তবুও বলা হবে তাতে নব্বইয়ের ছাপ রয়েছে। আমি বা সোনু নতুন গান গাইলেও অনেকের মনে হবে সেটা পুরোনো আমলের সুরের মতো। কিন্তু শাহরুখ খান যখন ‘পাঠান’ করেন, তখন তো কেউ বলেন না যে তাঁকে ‘বাজ়িগর’-এর মতো লাগছে! নায়কেরা চিরকালীন থেকে যান, অথচ গায়করা তারিখে বন্দি হয়ে পড়েন।”
শান মনে করেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যায়। শিল্পীদের কাজ সময়ের বাইরে গিয়ে বিচার করা উচিত, কোনও নির্দিষ্ট দশকের খোপে ফেলে নয়।
তবে শুধু শ্রোতাদের মানসিকতা নয়, গানের ইন্ডাস্ট্রির কাঠামো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। শান স্পষ্ট জানিয়েছেন, “গায়ক হিসাবে আমাদের গানগুলো আসলে আমাদের হাতে থাকে না। গানটির সমস্ত অধিকার থেকে যায় সেই ‘লেবেল’-এর কাছে, যার ব্যানারে গান মুক্তি পায়। তাই আমি চাইলে নিজে থেকে গান বের করতে পারি না। যতক্ষণ না লেবেল আগ্রহী হয়, আমার কিছু করার নেই।”
শানের কথায়, এই কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজস্ব নতুন গান বাজারে আনতে পারছেন না। বর্তমানে রিপ্রাইজ় ও রিমিক্সের যুগে মৌলিক গান তৈরির সুযোগও তুলনায় কমে যাচ্ছে।
এদিকে, আগামী শুক্রবার মুম্বইয়ে এক বিশেষ কনসার্টে হাজির হতে চলেছেন শান। সেই অনুষ্ঠানে তিনি কিংবদন্তি কিশোর কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর গান পরিবেশন করবেন। নতুন প্রজন্মের সামনে পুরোনো দিনের সেই অমর সুরগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর লক্ষ্য।
শানের মতে, গান মানুষের অনুভূতির সম্পদ, তার কোনও বয়স নেই। তাই শিল্পীকে কেবল সময়ের ফ্রেমে বেঁধে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল, গায়ক হিসাবে তিনি শুধু নস্ট্যালজিয়ার স্মৃতিচিহ্ন নন, বরং সমসাময়িক সঙ্গীত জগতেও তাঁর সমান প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ