‘সবুজসাথী’ বদলে ‘সারথি’, রাজ্যেই কারখানা তৈরির বার্তা শুভেন্দুর!
নবম শ্রেণিতে উঠলে নয়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই পড়ুয়ারা বিনামূল্যে সাইকেল পাবে। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পাল চৌধুরী স্কুলে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ‘সবুজসাথী’ নামে পরিচিত এই সাইকেল প্রকল্পের নাম বদলে ‘সারথি’ করার কথা সরকার জানিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ রাজ্যে ‘সারথি’ প্রকল্পের সাইকেল তৈরি করতে আগ্রহী শিল্পগোষ্ঠী বা সংস্থাগুলিকে জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। অর্থাৎ, সাইকেলের যন্ত্রাংশ বা উৎপাদনের জন্য বাইরের রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পশ্চিমবঙ্গেই উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
‘সবুজসাথী’ প্রকল্পটি ২০১৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হয়েছিল। প্রথম দিকে মূলত ছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হলেও পরে ছাত্রদেরও এর আওতায় আনা হয়। সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পড়ুয়ারা সাধারণত নবম শ্রেণিতে উঠলে এই সুবিধা পেতেন। নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে প্রকল্পটির নাম বদলে হয়েছে ‘সারথি’; এখন অষ্টম শ্রেণি থেকেই সাইকেল দেওয়ার কথা জানানো হল। প্রকল্পের আগের সুবিধা বজায় রেখেই নাম পরিবর্তনের কথা জুলাইয়েই জানানো হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে পূর্বতন সরকারের সাইকেল প্রকল্পের সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগে পঞ্জাবের জলন্ধর থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ এনে এ রাজ্যে সাইকেল তৈরি করা হত এবং সেই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এক আত্মীয় ও পরিচিতকে। এই অভিযোগের পক্ষে অনুষ্ঠানে কোনও পৃথক নথি বা তদন্তের তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
এ দিন পড়ুয়াদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনায় মোবাইলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখার আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি স্কুলে স্মার্ট ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা, আরও স্কুলকে ‘স্মার্ট স্কুল’ হিসাবে গড়ে তোলা এবং স্কুলগুলিতে এনসিসি চালুর কথাও জানান।
প্রকল্পের উদ্বোধনের পর পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে মিড-ডে মিলের খাবার খান শুভেন্দু। তাঁর পাতে ছিল ভাত, ডাল, সয়াবিন-আলু-বড়ির তরকারি এবং টম্যাটোর চাটনি।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যজুড়ে ‘সারথি’ প্রকল্পের সাইকেল বণ্টনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সরকারি ব্যবস্থায় সাইকেল বিতরণের আগে পড়ুয়াদের তথ্য যাচাই ও নথিভুক্তির প্রক্রিয়াও রাখা হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।