নবমী নিশিতে ‘বর্ষাসুর’ বনাম দর্শনার্থী!
আর মাত্র একদিন। তারপরেই বিদায়ের সুর বাজবে পুজোর আকাশে। তার আগে নবমীর দিনটিকে ঘিরে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের শেষ আনন্দের ছোঁয়া। বুধবার সকাল থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে দুপুর পেরোতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির দেখা মিলেছে কলকাতায়। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নবমীর রাতেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির ভয়কে উপেক্ষা করেই মানুষের ঢল নামছে শহরের প্রতিটি পুজোমণ্ডপে।
দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও বুধবার দুপুর থেকেই বৃষ্টির দেখা মিলেছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে নবমীর রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ দশমী থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
দিনভর শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬ ডিগ্রির কাছাকাছি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও ছিল বেশি—সর্বাধিক ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৬৯ শতাংশ। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নবমীর রাতে শহরের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আর দশমীতে বৃষ্টি আরও জোরালো হতে পারে, ফলে দুর্গাপুজোর বিদায়বেলায় ভিজতে পারে গোটা শহর।
তবুও বৃষ্টি যে মানুষের উৎসবে বাঁধা ফেলতে পারবে না, তার প্রমাণ মিলেছে বুধবার সন্ধ্যা থেকেই। আকাশে কালো মেঘ জমলেও তাতে দমে না গিয়ে প্যান্ডেল থেকে প্যান্ডেলে ছুটে চলেছেন দর্শনার্থীরা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—শহরের প্রতিটি কোণে পুজোমণ্ডপে জনজোয়ার। শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, বাগবাজার, একডালিয়া এভারগ্রিন—সব জায়গায় নবমীর রাতে মানুষের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো।
বেলা বাড়তেই মনে হচ্ছিল, কালো মেঘ আর হঠাৎ বৃষ্টিতে পুজোর আনন্দে ছেদ পড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘বর্ষাসুর’-কে হারিয়ে জয়ী হলেন দর্শনার্থীরা। ছাতা মাথায় বা রেইনকোট গায়ে নিয়েও তাঁরা মণ্ডপে হাজির হয়েছেন পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে। কারণ, এই রাত যে বছরের অপেক্ষার ফল!
এখন চোখ দশমীর দিকে। আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, সেই দিন বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে, কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে। কিন্তু নবমীর অভিজ্ঞতা বলছে, বৃষ্টি যতই হোক না কেন, পুজোর আনন্দে ভাটা পড়বে না। শেষ রাতের উৎসবের মেজাজে কলকাতা এখন সম্পূর্ণ ভিজে রয়েছে উচ্ছ্বাসে ও আবেগে।