নন্দীগ্রামে প্রতি বছরই ‘সেবাশ্রয়’!
নন্দীগ্রাম—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম মাইলফলক। অথচ সেই নন্দীগ্রামেই গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে কোন্দল থামছেই না। নানা চেষ্টা, নানা সমঝোতা—সবই যেন ব্যর্থ। ঠিক এই আবহেই ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের সেবাশ্রয় শিবির ঘুরে অভিষেক কার্যত হুঙ্কারের সুরেই ঘোষণা করেন,
“এবার শুধু নয়, প্রতি বছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে। পরের বার ১৭টি অঞ্চলেই হবে। ক্ষমতা থাকলে আটকান!”
এই বক্তব্যে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি নয়—শুভেন্দুই। কটাক্ষের সুরে অভিষেক এমনও বলেন, ভবিষ্যতে শুভেন্দুর পরিবারের লোকজনকেও সেবাশ্রয়ের পরিষেবা নিতে হতে পারে।
২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারানোর কথা প্রায়ই তুলে ধরেন শুভেন্দু। সেই প্রসঙ্গেই অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন,
“এই ১৯৫৬ জনের মধ্যে কতজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন? কতজনের মাথার উপর ছাদ তুলে দিয়েছেন? কাজের রিপোর্ট কার্ড দিন।”
সেবাশ্রয় ঘিরে বিতর্কও কম নয়। শুভেন্দুর মন্তব্য ছিল, হিন্দুরা যেন ‘তৃণমূলের ট্যাবলেট’ না খান। কিন্তু বৃহস্পতিবার শিবিরে দেখা গেল ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ভিড়। চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা মানুষের মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। যদিও শিবিরের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তার জবাবে অভিষেক সাফ জানিয়ে দেন, হিসাব দেবেন ইনকাম ট্যাক্স বা প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে—শুভেন্দুকে নয়।
অন্য দিকে, সেবাশ্রয় ঘিরে তৃণমূলের সাংগঠনিক বাস্তব ছবিও ধরা পড়ে। নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের শিবিরে সমন্বয় ও ভিড়—দু’দিক থেকেই এগিয়ে ছিল ২ নম্বর ব্লকের তুলনায়। দু’টি শিবিরই শহিদ পরিবারের সদস্যদের দিয়ে উদ্বোধন করানো হয়—যাঁদের অনেকেই আবেগে বললেন, নন্দীগ্রামের আন্দোলনে মমতার ভূমিকাই ছিল মুখ্য।
তবে শিবিরে ঢোকা নিয়ে নেতাদের মধ্যেও দেখা যায় অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি। কে কোন ব্লকের শিবিরে ঢুকবেন, তা নিয়েই শুরু হয় গুঞ্জন। সব মিলিয়ে বোঝা গেল, কোন্দল এখনও পুরোপুরি মেটেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে ‘সেবাশ্রয়’ শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবা নয়—এটি অভিষেকের এক কৌশলগত চাল। এক দিকে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ, অন্য দিকে তৃণমূলের ভাঙা সংগঠনে মলম লাগানোর চেষ্টা।
সেবাশ্রয় কর্মসূচি সফল হবে—এ নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে এই ‘সেবামলম’ কি নন্দীগ্রামের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ক্ষতে সত্যিই কাজ দেবে? সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে সময়ই।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা