নতুন মুদ্রা বন্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের! বাজেট বাঁচাতে কি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন প্রেসিডেন্ট?

যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালে নতুন মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ, ট্রাম্পের দাবি ‘অপব্যয় কমাতে হবে’ দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়সঙ্কোচ নীতিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন মুদ্রা ও কয়েন ছাপানো বন্ধের নির্দেশ…

February 10, 2025
1 min read

যুক্তরাষ্ট্রের টাঁকশালে নতুন মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ, ট্রাম্পের দাবি ‘অপব্যয় কমাতে হবে’

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়সঙ্কোচ নীতিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন মুদ্রা ও কয়েন ছাপানো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দফতরকে (U.S. Treasury) সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— নতুন করে আর কোনো মুদ্রা তৈরি করা যাবে না। ট্রাম্প নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সমাজমাধ্যমে।

এই নির্দেশের পেছনে যুক্তি কী? ট্রাম্পের দাবি, একটি ‘পেনি’ তৈরি করতে যা খরচ হয়, তা তার প্রকৃত মূল্যের দ্বিগুণ! ফলে, নতুন করে মুদ্রা ছাপানোর অর্থ সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়।

💰 কেন বন্ধ হচ্ছে নতুন মুদ্রা?

ট্রাম্পের প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি পেনির মূল্য এক সেন্ট (এক ডলারের এক শতাংশ), কিন্তু সেটি তৈরি করতে খরচ হয় দুই সেন্ট! অর্থাৎ, প্রতিটি নতুন পেনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য ‘অপব্যয়’ বলে মনে করছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার সরকারি খরচ কমানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন। অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, বাণিজ্যে শুল্ক বৃদ্ধি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ— সবকিছুর মধ্যেই তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ছাপ স্পষ্ট। এবার সেই অর্থনৈতিক পরিকল্পনারই অংশ হিসাবে নতুন মুদ্রা ছাপানোর খরচ কমানো হল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

🇺🇸 অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

নতুন মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে বর্তমান বাজারে থাকা কয়েন ও নোটের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, নতুন কয়েন তৈরি বন্ধ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে পুরনো কয়েনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যার ফলে কিছু পণ্য কেনাবেচায় অসুবিধা হতে পারে।

তবে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো ধীরে ধীরে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ফলে কয়েনের ব্যবহার ভবিষ্যতে এমনিতেই কমে আসবে।

🛑 কানাডা-মেক্সিকোর ওপর শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত

এই ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর শুল্ক বসানোর কথা বলেন। যদিও ব্যাপক বিতর্কের পর হোয়াইট হাউস আপাতত জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প রবিবার আবারও ঘোষণা দিয়েছেন, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক বসানো হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে আসবে বলে জানানো হয়েছে।

কানাডা এবং মেক্সিকো— যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। বিশেষ করে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির বেশির ভাগই আসে এই দুই দেশ থেকে। ফলে, ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক নীতি তিন দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

🔍 বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ব্যয় হ্রাস ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি।
📌 সরকারি ব্যয় কমানো: নতুন মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ করার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার বাঁচানোর পরিকল্পনা।
📌 বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন: আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।
📌 ডিজিটাল লেনদেনে জোর: ধীরে ধীরে কয়েনের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো।

তবে, অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়তে পারে।

🤔 শেষ পর্যন্ত কী হবে?

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে।
🔹 কেউ বলছেন, এটি সরকারি ব্যয় হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
🔹 আবার কেউ মনে করছেন, এটি অর্থনীতির স্বাভাবিক চক্রে হঠাৎ বড় পরিবর্তন এনে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নতুন মুদ্রা উৎপাদন বন্ধ করা, আমদানির উপর শুল্ক আরোপ, সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা— সব মিলিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

গুরুতর অসুস্থ ওড়িয়া অভিনেতা উত্তম মহান্তি, ভেন্টিলেশনে রেখে দিল্লিতে স্থানান্তর

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *