স্থগিতাদেশ নেই, তবু কেন আবেদন? হাই কোর্টে !
উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ‘সুপারনিউমেরারি’ পদে নিয়োগ নিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এমন এক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, যা নিয়ে আইনি মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আসলে বিষয়টি শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষায় ওয়েটিং লিস্ট থেকে নিয়োগের জন্য রাজ্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিল। তখনই সেই পদ নিয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে হাই কোর্ট।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ২৬ হাজার চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় এই ‘সুপারনিউমেরারি’ পদ নিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। সেই রায় দেখিয়েই এবার হাই কোর্টে রাজ্য আবেদন জানিয়েছে, যাতে উচ্চ প্রাথমিকে এই পদে নিয়োগ চালু করা যায়। তাদের যুক্তি, পূর্বে জারি হওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর নেই, তাই সেটি তুলে নেওয়া হোক।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে আইনি ধোঁয়াশা। বিচারপতি বসুর সরল প্রশ্ন— যেখানে রাজ্য নিজেই বলছে যে স্থগিতাদেশের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে, সেখানে আবার সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন কেন? এই আবেদনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিচারপতির ভাষায়, “একই বিষয়ে রাজ্যের দুটি ভিন্ন অবস্থান— একদিকে তারা বলছে স্থগিতাদেশের মেয়াদ নেই, অন্যদিকে আবার সেটি প্রত্যাহার চেয়ে আদালতে আবেদন করছে। আদালত কোন যুক্তিকে প্রাধান্য দেবে?”
অন্যদিকে, মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে— পুনরায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হোক, যাতে নিয়োগে কোনোরকম তাড়াহুড়ো না হয়। বিচারপতি বসু জানিয়েছেন, বুধবার লিখিত আকারে সেই আবেদন জানালে আদালত তা বিবেচনা করবে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে, যখন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ব্যক্তিগত কারণে উচ্চ প্রাথমিকের শারীরশিক্ষার মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তিনি জানিয়ে দেন, মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে এবং তিনিই ঠিক করবেন পরবর্তী শুনানি কোথায় হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী বলেন, “রাজ্য এত দিন নিয়োগ করল না কেন? তারা চাইলে আগেই করতে পারত। আসলে রাজ্যের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইচ্ছাশক্তির অভাব আছে। দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীরা অপেক্ষা করছেন, অথচ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কেবল দোদুল্যমান।”
এই মামলার শুনানি ফের হবে বুধবার। সেদিন রাজ্য তাদের যুক্তি লিখিত আকারে আদালতের সামনে পেশ করবে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ এবং রাজ্যের অবস্থান, দুয়ের মিল খুঁজে পাওয়াটা এখনো আদালতেরই দায়িত্ব। তবে এতদিন পরে নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের ভূমিকা নিঃসন্দেহে নানা প্রশ্ন তুলছে।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের