জয়ে লা লিগা অভিযান শুরু বার্সেলোনার, বিতর্কে রইল ফ্লিকের দল!
লা লিগার নতুন মরসুম শুরু করল বার্সেলোনা, আর প্রথম ম্যাচেই নিজেদের দাপট দেখাল হ্যান্সি ফ্লিকের দল। তবে জয়টা সহজ হলেও তা নিখুঁতভাবে বিতর্কমুক্ত থাকল না। ন’জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা শেষ করা মায়োরকাকে ৩-০ গোলে হারাল লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রাক-মরসুমের প্রস্তুতি ম্যাচে চার খেলায় ২০ গোল করা বার্সেলোনার শক্তি নিয়ে সংশয় ছিল না কারও। মাঠে নামতেই সেটাই প্রমাণ করল লামিনে ইয়ামাল, ফেরান তোরেস ও রাফিনিয়ারা। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে চাপে ফেলে দেন মায়োরকার রক্ষণভাগকে।
ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই গোল করে বার্সাকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে কাতালান ক্লাব। ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। তবে এই গোল নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক। কারণ, ওই সময় মায়োরকার অধিনায়ক আন্তোনিয়ো রাইলো বক্সের মধ্যে চোট পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে ছিলেন। মাথায় চোট পেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করলেও রেফারি খেলা থামাননি। ফিরতি বলে গোল করে দেন তোরেস। গোলের পরই প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মায়োরকার খেলোয়াড়রা। মিডফিল্ডার মানু মোরলানেস রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করায় দেখেন হলুদ কার্ড। কিছুক্ষণ পর আবার ইয়ামালকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
এতেই বিপাকে পড়ে মায়োরকা। তার মাত্র ছয় মিনিট পর, ৩৯ মিনিটে আরও বড় আঘাত আসে। বার্সার গোলরক্ষক গার্সিয়াকে ফাউল করায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন স্ট্রাইকার ভেদাত মুরিকি। পরে ভিএআর দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে লাল কার্ড দেখান। ফলে মায়োরকা ন’জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। উল্লেখযোগ্য, মায়োরকার ১০৯ বছরের ইতিহাসে লা লিগার প্রথম ম্যাচে তাদের দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন মাত্র দ্বিতীয়বারের জন্য। কাকতালীয়ভাবে, আগের ঘটনাটিও ঘটেছিল বার্সেলোনার বিরুদ্ধেই, ২৩ বছর আগে।
যদিও ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও মায়োরকা হাল ছাড়েনি। সীমিত সংখ্যক খেলোয়াড় নিয়েও তারা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে। তবে সংখ্যাগত দিক থেকে এগিয়ে থাকা বার্সা বারবার আক্রমণ করলেও গোল পেতে সময় লেগে যায়। সহজ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামাল ও তোরেসরা।
অবশেষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করে দেন লামিনে ইয়ামাল। তরুণ তারকার এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বার্সেলোনার।
এই ম্যাচে জয় পেলেও বার্সার খেলার মধ্যে কিছুটা অগোছালো ভাব ধরা পড়েছে। সুযোগ হাতছাড়া করার প্রবণতা ফ্লিককে ভাবাচ্ছে। অন্যদিকে, বিতর্কিত দ্বিতীয় গোল নিয়েও সমালোচনা চলছে। তবে মরসুমের প্রথম ম্যাচে জয়ই দলের মনোবল বাড়িয়ে দিল কাতালান ক্লাবের।
লা লিগার নতুন অধ্যায়ে বার্সেলোনা যে আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিল এই ম্যাচেই। তবে বিতর্কের ছায়া এড়িয়ে ফ্লিকের দলকে এখন নিয়মিতভাবে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।