ইজ়রায়েল–আমেরিকার যৌথ হামলার পর বিধ্বস্ত ইরান!
পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির আগুন আরও তীব্র। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানকে নিশানা করে Israel ও United States। রাজধানী Tehran-সহ একাধিক শহরে আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। আকাশজুড়ে ধোঁয়া, মাটিতে ধ্বংসস্তূপ— আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।
⚔️ অভিযানের নাম, বিস্ফোরণের শব্দ
ইজ়রায়েল তাদের অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’, আর আমেরিকার পোশাকি নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। হামলার পরপরই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব— Benjamin Netanyahu ও Donald Trump— দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হয়েছেন। পরে তেহরানও তাঁর মৃত্যুর খবর স্বীকার করে।
এই ঘটনার পর থেকে হামলা ও পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত গোটা অঞ্চল।
🏚️ সেনাঘাঁটি থেকে স্কুল-হাসপাতাল
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোরের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ফেসিলিটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কয়েকটি সামরিক বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে।
তবে শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়— ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুলিশ স্টেশন, স্কুল, এমনকি হাসপাতালও। তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল ভেঙে পড়ার ছবি সমাজমাধ্যমে ঘুরছে। মিনাবের একটি স্কুলে উদ্ধারকারীর হাতে ধরা এক পড়ুয়ার ব্যাগ— কিন্তু সেই পড়ুয়া কোথায়, তার উত্তর নেই।
ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজ়া নাজাফি দাবি করেছেন, একটি পরমাণু কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও International Atomic Energy Agency-র প্রধান Rafael Grossi জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি।
📊 হতাহতের হিসাব
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি। আহত বহু মানুষ। ইজ়রায়েলে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।
সংঘাতের এই পর্বে সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত— এমনটাই মত বিশ্লেষকদের।
🌍 আঞ্চলিক অস্থিরতা
ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় যে দেশগুলিতে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, সেখানেও হামলার খবর মিলছে। আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত ইজ়রায়েল–আমেরিকা জোট আপাতত আক্রমণের তেজে এগিয়ে— এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না— বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়বে তার ছাপ।
🕊️ ধোঁয়ার আড়ালে মানুষের গল্প
বিস্ফোরণের শব্দের মাঝে সবচেয়ে করুণ দৃশ্য— ঘরহারা মানুষ, শোকস্তব্ধ পরিবার, ভয়ে উড়ে যাওয়া পাখির দল। তেহরানের আকাশে ধোঁয়া শুধু যুদ্ধের নয়, হারিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক জীবনেরও প্রতীক।
এই মুহূর্তে ইরান এক গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধের কৌশল, পাল্টা আক্রমণ, সামরিক শক্তির তুলনা— সব কিছুর আড়ালে রয়ে যাচ্ছে মানুষের বেদনা।
ধ্বংসের এই ছবি কত দিন স্থায়ী হবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত পশ্চিম এশিয়ার আকাশে শান্তির রং দেখা যাচ্ছে না— শুধু ধোঁয়া আর অনিশ্চয়তার ছায়া।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?