দেবগৌড়ার নাতি রেভান্নার কঠোর সাজা কর্নাটক আদালতে!
ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা হল কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার নাতি প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে। শুধু কারাদণ্ডই নয়, বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছে। যার মধ্যে ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে নির্যাতিতাকে।
এই মামলায় রেভান্না পরিচারিকার ওপর ধারাবাহিকভাবে যৌন নিগ্রহ চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। কর্নাটকের হাসান জেলার একটি খামারবাড়িতে ওই মহিলাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেছিলেন তিনি। এমনকি সেই সময়ের কিছু ছবি ও ভিডিও তুলে তা ব্যবহার করে নির্যাতিতাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উঠে এসেছে।
কর্নাটক পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) দীর্ঘ তদন্তের পরে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। বিচারক সন্তোষ গজানম ভাটের নেতৃত্বাধীন বেঙ্গালুরুর অতিরিক্ত দায়রা আদালত শুক্রবার রেভান্নাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং শনিবার তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়।
সাজা ঘোষণার আগে এজলাসে দাঁড়িয়ে রেভান্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বলেন, “আমার একমাত্র দোষ, আমি রাজনীতিতে খুব দ্রুত এগিয়ে গিয়েছিলাম। এটা অনেকের সহ্য হয়নি। সে কারণেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, “যাঁরা অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের কেউই নিজের ইচ্ছায় আসেননি। লোকসভা ভোটের মাত্র ছ’দিন আগে হঠাৎ এই অভিযোগ তোলা হয়, তার পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।”
তবে আদালত এই দাবি আমলে নেয়নি। বিচারক জানান, SIT-এর তদন্ত, উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ, ভিডিয়ো, নির্যাতিতার বয়ান— সব মিলিয়ে রেভান্নার দোষ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে হাসান কেন্দ্র থেকে জেডি (এস)-এর হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন রেভান্না। কিন্তু ঠিক ভোটের আগেই একটি পেনড্রাইভ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্থার ভিডিও থাকায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সেই ঘটনার জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে জেডি (এস)। এরপর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের ছন্দপতন শুরু হয়।
এজলাসে রেভান্না আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “আমার একটি পরিবার আছে, মা-বাবার সঙ্গে দেখা হয়নি গত ছ’মাসে। আমি আদালতের কাছে অনুরোধ করছি, যেন আমাকে ন্যূনতম শাস্তি দেওয়া হয়।” তবে বিচারক এই আবেদনে কর্ণপাত করেননি।
এই রায় কর্নাটকের রাজনীতিতে বড়সড় বার্তা দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। পরিবারের প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও আইনের চোখে কেউই ছাড় পাচ্ছেন না — এই বার্তাই যেন দিল এই রায়।
দোষী প্রমাণিত রেভান্নাকে এখন জীবনের বাকি সময় কাটাতে হবে জেলে। আর এই ঘটনা রাজনীতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছড়িয়ে দিল— অপরাধ করলে শাস্তি হবেই, যত বড় প্রভাবশালীই হোন না কেন।
১০ জনের মোহনবাগান মহমেডানকে হারিয়ে ডুরান্ডে জয়লাভ, নায়ক লিস্টন কোলাসো