ধর্মীয় মেরুকরণে কি পিছিয়ে পড়লেন এআর রহমান?
গত আট বছরে বলিউডে একের পর এক কাজ হাতছাড়া হয়েছে—এই বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন সুরস্রষ্টা এআর রহমান নিজেই। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল ধর্মীয় বিভাজন ও রাজনৈতিক পরিবেশ। রহমানের সেই মন্তব্য এ বার নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে সরাসরি কটাক্ষ করলেন এআইএমআইএম দলের মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান।
রহমানের মতে, গত আট বছরে ক্ষমতায় থাকা মহলের মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি, ধর্মীয় বিভাজনও নাকি তাঁর কাজ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। যদিও তিনি এও স্বীকার করেছেন, কেউ তাঁর মুখের সামনে সরাসরি এমন কিছু বলেননি। তবু অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর এই উপলব্ধি।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়ারিস পাঠান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এআর রহমান আন্তর্জাতিক স্তরের একজন শিল্পী। উনি যদি এমন কথা বলেন, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার। যদিও আমি নিজে এখনও পুরো মন্তব্যটা শুনিনি বা পড়িনি।” তবু তিনি স্পষ্ট করে দেন, রহমানের কথার মধ্যে বাস্তবতার ছাপ রয়েছে।
পাঠানের বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে বিভাজনের রাজনীতি বেড়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা তো দীর্ঘ দিন ধরেই বলছি—এই সরকার ঘৃণা আর হিংসার রাজনীতি করছে। তার ফলেই সমাজে মেরুকরণ বেড়েছে। এমনকি পিটিয়ে মারার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিবেশে শিল্প-সংস্কৃতির উপর প্রভাব পড়বেই।”
রহমান নিজেও বলেছিলেন, “গত আট বছরে আমি অনেক কাজ হারিয়েছি। ক্ষমতার বদলের পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ, যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁরা সৃজনশীল নন। ধর্মীয় বিভাজনও এর একটি কারণ হতে পারে।” যদিও তিনি এটাও যোগ করেন, এই বিষয়গুলি কেউ সরাসরি তাঁকে বলেনি—সবটাই তিনি পরিস্থিতি দেখে বুঝেছেন।
এই প্রসঙ্গে ওয়ারিস পাঠান আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, শিল্পীর কাজ শুধু সুর বা ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সমাজের পরিবেশও তার উপর প্রভাব ফেলে। “যখন চারপাশে শুধু বিভাজনের রাজনীতি চলে, তখন শিল্পীর স্বাধীনতা স্বাভাবিক ভাবেই সংকুচিত হয়,” মন্তব্য তাঁর।
রহমানের মন্তব্য তাই শুধুই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা নয়—বরং তা বলিউডের অন্দরমহলের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, শিল্পী হিসেবে রহমানের উচ্চতা এতটাই যে, তাঁর এই বক্তব্য সহজে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্য দিকে, রাজনৈতিক মহলও এই মন্তব্যকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে। ওয়ারিস পাঠানের বক্তব্যে স্পষ্ট, রহমানের অভিযোগকে হাতিয়ার করেই তিনি পদ্মশিবিরকে আক্রমণ করেছেন।
সব মিলিয়ে, এআর রহমানের একটি মন্তব্য যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—শিল্প আর রাজনীতির মাঝখানে ঠিক কতটা জায়গা থাকে সৃজনশীলতার জন্য? আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলিউড থেকে রাজনৈতিক ময়দান।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা