দেড় কোটি টাকার চেক বাউন্স ঘিরে মহমেডানে বিতর্ক!
মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আর্থিক সংকট আরও প্রকট হল সভাপতির দেওয়া দেড় কোটি টাকার তিনটি চেক বাউন্স হওয়ার অভিযোগে। ক্লাবের দাবি, এই অর্থের উপর নির্ভর করেই ফুটবলার ও কর্মীদের বকেয়া মেটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ফলে নতুন করে চাপে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। যদিও সভাপতি তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, আগামী ১০ অগস্টের মধ্যেই সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে।
ক্লাব সূত্রের দাবি, ১৭, ২০ এবং ৩০ জুলাই তারিখে ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট তিনটি চেক জমা দিয়েছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু তিনটিই বাউন্স করায় বেতন ও বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাবের উপর আবারও ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠলেও পুরনো পাওনা না মেটালে ফের সমস্যায় পড়তে হতে পারে মহমেডানকে।
তবে বিষয়টিকে সাময়িক আর্থিক জটিলতা বলেই ব্যাখ্যা করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, আইএফএ-র কাছ থেকে একটি পাওনা এখনও হাতে না আসায় অর্থ জমা পড়েনি। সেই কারণেই চেকগুলি অনাদায়ী হয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং ১০ অগস্টের মধ্যেই চেকগুলি ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ক্লাবের সচিব ওয়াসিম আক্রম প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সভাপতি হওয়ার সময় হুমায়ুন কবীর ক্লাবের প্রায় ১৩ কোটি টাকার বকেয়া মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর কথায়, নির্ধারিত সময় বারবার বদলানো হলেও এখনও পর্যন্ত ক্লাব এক টাকাও পায়নি।
ওয়াসিম আরও জানান, ১ অগস্টের মধ্যে ফুটবলার ও কর্মীদের বেতন-সহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে অর্থের জোগান না হলে ক্লাবের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ্যে এনে বিভিন্ন মন্তব্য করায় সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও মাঠের পারফরম্যান্সে অবশ্য ছন্দ বজায় রেখেছে মহমেডান। কয়েক দিন আগে বাঘপত এফসি-কে ৪-০ গোলে হারানোর পর বৃহস্পতিবার কলকাতা লিগে সুরুচি সংঘকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে দল। রেমসাঙ্গা এবং ফারদিন আলি মোল্লা গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
তবে মাঠের সাফল্যের আড়ালে প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েন এখন মহমেডান স্পোর্টিংয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?