দেওঘরে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: কাঁওয়ার যাত্রীদের মৃত্যু ১৮, শোকস্তব্ধ গোটা ঝাড়খণ্ড

দেওঘরে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা! শ্রাবণ মাসে দেওঘরের পবিত্র বৈদ্যনাথধামে যাচ্ছিলেন একদল কাঁওয়ার যাত্রী। কিন্তু ভোরের সেই যাত্রা হয়ে উঠল মৃত্যুমিছিল। মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের দেওঘর-বাসুকিনাথ সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি…

July 29, 2025
1 min read

দেওঘরে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা!

শ্রাবণ মাসে দেওঘরের পবিত্র বৈদ্যনাথধামে যাচ্ছিলেন একদল কাঁওয়ার যাত্রী। কিন্তু ভোরের সেই যাত্রা হয়ে উঠল মৃত্যুমিছিল। মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের দেওঘর-বাসুকিনাথ সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় ওই পুণ্যার্থীদের বাস। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোড্ডা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।

দুর্ঘটনাটি ঘটে জামুনিয়া জঙ্গলের কাছে, মোহনপুর থানা এলাকার অন্তর্গত অংশে। সকাল সাড়ে ৪টার সময়, ঘন অন্ধকারে বাসটি দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল বৈদ্যনাথধামের দিকে। হঠাৎই সামনে এসে পড়ে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাক। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। যাত্রীরা বাসের মধ্যে আটকে পড়েন, অনেকেই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত

ঝাড়খণ্ড পুলিশের আইজি (দুমকা জ়োন) শৈলেন্দ্রকুমার সিন্‌হা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৩২ আসনবিশিষ্ট বাসটিতে শুধু কাঁওয়ার যাত্রায় আসা পুণ্যার্থীরাই ছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছিলেন।

প্রথমে জানা গিয়েছিল, ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে আরও কয়েক জনের মৃত্যু হয়, এবং সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৮-তে।

সাংসদ নিশিকান্ত দুবের প্রতিক্রিয়া

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গোড্ডার সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তিনি বলেন, “শ্রাবণ মাসের কাঁওয়ার যাত্রার সময় এমন একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যাবে, কল্পনাও করা যায় না। আমাদের লোকসভা কেন্দ্রেই ১৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক।”

মানবিক সাহায্যের আবেদন

ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়, দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দেওঘরের বৈদ্যনাথধাম শ্রাবণ মাসে হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভিড় সামলাতে হয়, আর এই দুর্ঘটনা সেই যাত্রাকে গভীর শোকের ছায়ায় ঢেকে দিল। প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারি ও যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে যাতে এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।

এই করুণ দুর্ঘটনা গোটা ঝাড়খণ্ড এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলির মানুষকেও নাড়া দিয়ে গেল। ভোরবেলার সেই যাত্রা যেন আর কখনও ফেরা হলো না তাদের— যারা পুণ্য লাভের আশায় রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এলেন না।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা উচিত ভারতের? সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের যুক্তিতে কী আছে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *