দূষণে দিল্লির পরেই পটনা এবং চণ্ডীগড়! কলকাতার বাতাসের গুণমান কি বলছে?

দূষণে দিল্লির পরেই পটনা দিল্লির বাতাসের গুণগত মানে এখন ভয়াবহ অবস্থা চলছে, আর তাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অন্যান্য শহরের দূষণও। রবিবার দিল্লির বাতাসের গুণগত মান (এমেকিউআই) ৩৬৬-এ পৌঁছেছে, যা ‘অত্যন্ত…

November 24, 2024
1 min read

দূষণে দিল্লির পরেই পটনা

দিল্লির বাতাসের গুণগত মানে এখন ভয়াবহ অবস্থা চলছে, আর তাতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অন্যান্য শহরের দূষণও। রবিবার দিল্লির বাতাসের গুণগত মান (এমেকিউআই) ৩৬৬-এ পৌঁছেছে, যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে সিপিসিবি (কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড) এর তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি ছাড়াও দূষণের তালিকায় অন্য শহরগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক।

রবিবার, দিল্লির বেশ কিছু এলাকা যেমন চাঁদনি চওক (৩৪৯), আনন্দ বিহার (৪৭৩) এবং নয়াদিল্লি রেলস্টেশন (৩২৮)-এর মতো স্থানেও একিউআই ‘ভয়ানক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ধোঁয়াশা ঘনিয়ে থাকার পাশাপাশি, দৃশ্যমানতাও অনেক কমে গেছে। সিপিসিবি জানিয়েছে, রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দিল্লির বাতাসের গুণমান ‘অত্যন্ত খারাপ’ থাকবে। এতে করে শহরের মানুষজনকে দূষণ থেকে মুক্তির আশা কম।

দেশের অন্যান্য শহরের দূষণ পরিস্থিতি

দিল্লির পরেই দেশের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে পটনা এবং চণ্ডীগড়। পটনায় একিউআই ২৯৫, আর চণ্ডীগড়ে ২৪২ (খারাপ)। দূষণের দিক থেকে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ভুবনেশ্বর (২১৮) এবং কলকাতা (২১৯)। কলকাতার বাতাসের গুণমানও ‘খারাপ’ এবং ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রবিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার বালিগঞ্জের একিউআই ২৬৯, বিধাননগরে ২১৩ এবং ফোর্ট উইলিয়াম-এ ২৬০ ছিল। অন্যান্য স্থান যেমন যাদবপুর (১৭৬) এবং রবীন্দ্র সরোবর (১৯০) কিছুটা কম হলেও সামান্য খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। হাওড়া এলাকার দূষণও ভয়াবহ, যেমন দাসনগরে একিউআই ৩২১, ঘুসুড়ি ৩৩৮ (অত্যন্ত খারাপ)।

সিপিসিবি-এর পর্যবেক্ষণ

সিপিসিবি-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে, একিউআই ৫০-এর নিচে থাকলে তা ‘ভাল’ এবং ৫১-১০০ এর মধ্যে থাকলে ‘সন্তোষজনক’। তবে যখন একিউআই ৩০১-৪০০ এর মধ্যে চলে আসে, তখন তা ‘খুব খারাপ’ এবং ৪০১-৫০০ পর্যন্ত পৌঁছালে তা ‘অতি ভয়ানক’ হয়ে যায়। দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি বলছে যে, আগামী কিছুদিনেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্রশাসনের উদ্বেগ

এখন প্রশাসনের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মানুষকে এই দূষণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ যদি এইভাবে অব্যাহত থাকে, তবে জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও হার্টের সমস্যার মতো রোগ বাড়বে।

দেশের অন্যান্য শহরগুলির অবস্থা

কলকাতার মতো শহরের পাশাপাশি, দেশের অন্য শহরগুলিও দূষণের শিকার। তবে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, এবং চেন্নাইয়ের বাতাসের গুণমান এখনও কিছুটা ভালো, যেখানে একিউআই ‘সামান্য খারাপ’ অবস্থায় রয়েছে। কর্নাটকের চামরাজনগর, মিজোরামের আইজ়ল, কেরলের তিরুঅনন্তপুরম এবং অসমের গুয়াহাটি এই মুহূর্তে দূষণের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

দিল্লি ও অন্যান্য শহরের দূষণ পরিস্থিতি দেশের পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সরকার এবং প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয় এবং মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো যায়।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *