দুবাইয়ের ‘আগুনের গোলক’-এর জন্যই কি ভারতের ক্যাচ মিস? বরুণের দাবি, চাপে ফিল্ডিং কোচ দিলীপ

বরুণের দাবি, চাপে ফিল্ডিং কোচ দিলীপ বাংলাদেশকে সহজেই হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। কিন্তু দলের খুশিতে সামান্য দাগ ফেলেছে একটাই বিষয় – ফিল্ডিং। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২টি…

September 25, 2025
1 min read

বরুণের দাবি, চাপে ফিল্ডিং কোচ দিলীপ

বাংলাদেশকে সহজেই হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। কিন্তু দলের খুশিতে সামান্য দাগ ফেলেছে একটাই বিষয় – ফিল্ডিং। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২টি ক্যাচ ফেলে দিয়েছে ভারতীয় ফিল্ডাররা, যার মধ্যে ৯টি এসেছে মাত্র দু’টি ম্যাচেই। বুধবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচেও পড়েছে পাঁচটি সহজ ক্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের উপর, যার কাঁধে এখন চাপ অনেকটাই বেড়েছে।

ম্যাচের পরে ভারতীয় বোলার বরুণ চক্রবর্তী খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, ক্যাচ ফস্কানোর অন্যতম কারণ দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের আলো। তাঁর কথায়, “এই স্তরের ক্রিকেটে অজুহাত চলবে না। সুযোগ আসলে সেই ক্যাচ ধরতেই হবে। আমরা ফাইনাল খেলতে এবং ট্রফি জিততে নামছি। জিততে গেলে ক্যাচ নেওয়া অপরিহার্য।”

দুবাই স্টেডিয়ামের আলো অন্য যেকোনও মাঠের চেয়ে আলাদা। সাধারণত ফ্লাডলাইটের আলো আসে উঁচু স্তম্ভ থেকে, কিন্তু এখানে আলো বসানো আছে স্টেডিয়ামের ছাদে। তাই উপরের দিকে তাকালে আলোটা ‘আগুনের গোলক’-এর মতো চোখে লাগে। ক্রিকেটারদের ভাষায় এই আলোকে বলা হয় “রিং অফ ফায়ার”। এই কারণেই অনেক সময় বলের গতিপথ স্পষ্ট বোঝা যায় না, এবং সহজ ক্যাচও ফস্কে যায়। বরুণ বলেছেন, “মাঝে মাঝে সেই আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। বল দেখতে অসুবিধা হয়। তবে এর সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতেই হবে।”

ফিল্ডিং সমস্যার মধ্যে আরও একটি বিষয় নিয়েও চলছে আলোচনা। প্রতিযোগিতা শুরুর সময় এক সাক্ষাৎকারে ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ বলেছিলেন, তাঁরা দুবাইয়ের আলোর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন এবং ফিল্ডিং অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই যেন ভারতের ফিল্ডিং মান কমতে শুরু করেছে।

দিলীপ বলেছিলেন, “আমাদের ছোট থেকেই শেখানো হয়, ক্যাচ ওঠার সময় বল থেকে চোখ না সরাতে। চোখ সরালেই ভয় ঢোকে। তবে আমরা ফিল্ডিংয়ে কিছু নতুন পদ্ধতি এনেছি, যাতে মুহূর্তের জন্য চোখ সরলেও ক্যাচ ধরার আগে পর্যাপ্ত সময় থাকে।” কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। ফিল্ডাররা অনেক আগেই বলের নিচে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বল হাতে আসছে না। শিশিরও নেই মাঠে, ফলে সেই অজুহাতও খাটছে না। এখন দিলীপের সবচেয়ে বড় কাজ হবে, কেন এমন হচ্ছে তার সঠিক কারণ খুঁজে বের করা।

বরুণও মানছেন, কোচের কাছ থেকে এবার কড়া কথা শুনতেই হবে। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই এই দলটা গড়া হয়েছে। ফিল্ডিংয়ে আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। কোচ আমাদের নিশ্চয়ই অনেক কিছু বলবেন। আগের ম্যাচের পর তেমন কিছু বলেননি, কিন্তু এবার ছেড়ে কথা বলবেন না।”

ভারতের ফিল্ডিং সমস্যা নতুন কিছু নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আগে এমনভাবে ক্যাচ ফস্কানো দলকে চিন্তায় ফেলছে। বিশেষত, ফাইনালের আগে এমন পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানতে পারে। দলের অনেকেই মনে করছেন, ‘রিং অফ ফায়ার’-এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, ব্যাট ও বল হাতে ভারত নিজেদের শক্তি দেখালেও, ফিল্ডিংয়ের খামতি ফাইনালের আগে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখা যাক, দিলীপ ও তাঁর দল এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে পারেন কি না, আর ভারত ফাইনালে নিখুঁত পারফরম্যান্স দিতে পারে কি না।

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *