দুই দফার ভোটে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ!
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফার ভোটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ গরম হয়ে উঠেছে। প্রচার, জনসভা ও রাজনৈতিক তরজায় সরগরম গোটা রাজ্য। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দু’দফায় মিলিয়ে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯২৬ জন।
প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল, যেখানে মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল, ১৪২টি আসনে। সব মিলিয়ে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হচ্ছে দুই ধাপে। ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলায়—যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়া। ফলে এই দফাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির নজর আরও বেশি এই অঞ্চলগুলির দিকেই।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় দফায় মোট মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি, যার মধ্যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪৪৮ জন। অর্থাৎ ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
প্রার্থী সংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে, যেখানে মোট ১৯ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই কেন্দ্র বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) বিধানসভা কেন্দ্রে—এখানে মাত্র ৫ জন প্রার্থী ভোটের ময়দানে আছেন।
বিভিন্ন আসনে প্রার্থী সংখ্যার বিচারে ছবিটা বেশ বৈচিত্র্যময়। কোথাও ১৫ জন পর্যন্ত প্রার্থী লড়াই করছেন, যেমন নোয়াপাড়া, এন্টালি এবং হাওড়া মধ্যের মতো কেন্দ্রগুলোতে। আবার দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি ও ডোমজুড়ের মতো একাধিক কেন্দ্রে ১৪ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এরপর রয়েছে বহু কেন্দ্র যেখানে ১৩ থেকে ৯ জন প্রার্থী লড়াই করছেন, যার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ দুই ধরনের কেন্দ্রেই সমানভাবে প্রতিযোগিতার ছবি স্পষ্ট।
আরও নিচে নামলে দেখা যায়, ৮ থেকে ৬ জন প্রার্থী থাকা কেন্দ্রগুলিতে তুলনামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা কম হলেও ভোটের লড়াই সেখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে আরামবাগ (এসসি) এবং আউশগ্রামের মতো কেন্দ্রে ৬ জন প্রার্থী লড়াই করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী সংখ্যার এই ভিন্নতা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রাই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনসমর্থনের দিকও স্পষ্ট করে।
সব মিলিয়ে, দুই দফার এই ভোটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই ভোটারদের দৃষ্টি এখন ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের দিকে। শেষ পর্যন্ত কে কোথায় বাজিমাত করে, তা জানা যাবে ৪ মে-র ফলাফলে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?