দিল্লিতে ভোরবেলার ভূমিকম্পে আতঙ্ক!
বৃহস্পতিবার সকালটা দিল্লিবাসীর কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠল। হঠাৎ সকাল ৯টা ৪ মিনিটে রাজধানী দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় অনুভূত হল মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৪, যার উৎসস্থল ছিল হরিয়ানার ঝজ্জর, দিল্লি থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পন হওয়ায় রাজধানী এবং সংলগ্ন শহরগুলিতে তা বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
কম্পনের সঙ্গে সঙ্গেই বহু বাসিন্দা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বাড়ির আসবাবপত্র, পাখা কেঁপে ওঠে—এমন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন বহু মানুষ। দিল্লির পাশাপাশি গুরুগ্রাম, নয়ডা, সোনিপত, হিসার, মেরঠ এবং শামলির মতো অঞ্চলেও কম্পন টের পাওয়া গেছে। রাজধানী সংলগ্ন বিভিন্ন বহুতলে কর্মরত অফিসকর্মীরাও জানান, ভূমিকম্পের সময় কম্পিউটার ও আসবাবপত্র কেঁপে উঠেছিল, আর সে কারণেই আতঙ্কে বহুতল ভবন থেকে নেমে আসেন তাঁরা।
তবে এখনো পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং কোথাও বড় ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য নেই। তবুও আতঙ্কের রেশ রয়ে গেছে বহু মানুষের মনে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দিল্লি
ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্প দিল্লির জন্য একেবারে অচেনা নয়। রাজধানী ভারতের ‘সিসমিক জোন ৪’-এ পড়ে, যা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ‘ন্যাশনাল ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (NDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫৯ শতাংশ ভূখণ্ড ভূমিকম্পপ্রবণ। ভারতের চারটি সিসমিক জোন রয়েছে—জোন ২, ৩, ৪ এবং ৫। এর মধ্যে জোন ৫ সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং জোন ২ সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ। দিল্লি যেখানে অবস্থিত, সেই জোন ৪-এ মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প প্রায়শই হতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও দিল্লিতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যার মাত্রা ছিল ৪। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলের টেকটনিক প্লেটগুলির সক্রিয়তার কারণেই বার বার রাজধানীতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়
ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা হিসেবে দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-নিরোধক প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়ানো, সময়মতো সতর্কতা জারি এবং দুর্যোগ মোকাবিলা পরিকল্পনা থাকাও জরুরি।
এই ধরনের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প যদিও বড় ক্ষতির কারণ না হলেও, বড়সড় ঝাঁকুনির সম্ভাবনা থাকায় তা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকে। নিয়মিত মহড়া, স্কুল-কলেজ-অফিসে সচেতনতা শিবির এবং নাগরিকদের জন্য জরুরি নম্বর ও গাইডলাইন প্রচার এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।
এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ালেও আবারও মনে করিয়ে দিল যে দিল্লি এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভূমিকম্পের দিক থেকে কতটা স্পর্শকাতর। তাই এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে আগাম প্রস্তুতিই একমাত্র উপায় বড় বিপদের থেকে বাঁচার।
‘পুতিনের কাজে খুশি নই’: ট্রাম্পের ক্ষোভ, রাশিয়ার উপর ফের নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত