দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপির সমন্বয় বৈঠক: সংসদে আরও সরব হওয়ার বার্তা শুভেন্দুর

দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপির সমন্বয় বৈঠক! সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপির সাংসদদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী…

March 18, 2025
1 min read

দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপির সমন্বয় বৈঠক!

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপির সাংসদদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সংসদ সদস্য সৌমিত্র খাঁ, সৌমেন্দু অধিকারীসহ একাধিক সাংসদ। মূলত, সংসদে বিজেপি সাংসদদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠক শুরুর অপেক্ষায়

বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৬টায়। একে একে সাংসদরা উপস্থিত হতে থাকেন সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে। তবে, শুভেন্দু অধিকারী তখনও পৌঁছননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে বৈঠক শুরু হওয়ার প্রশ্নই ছিল না।

এই ফাঁকে বিজেপি সাংসদদের মধ্যে এক অন্যরকম সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ে। সুকান্ত নিজেও বাংলো থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাডমিন্টন খেলায় যোগ দেন। একদিকে ছিলেন সুকান্ত ও পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো, অন্যদিকে ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ও রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পাল। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা।

শুভেন্দুর প্রবেশ ও বৈঠকের সূচনা

প্রায় ৬টা ৩৫ মিনিটে শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকের স্থলে পৌঁছন। হাতে সুকান্তের জন্য গেরুয়া রঙের ফুলের তোড়া। তাঁর প্রবেশের পরই সাংসদরা বাংলোর ভিতরে গিয়ে বৈঠকে বসেন।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু এবং রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

সংসদে আরও সরব হওয়ার পরামর্শ

বৈঠকের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সংসদে বঙ্গ বিজেপির সাংসদদের ভূমিকা। কে কতটা সময় পাচ্ছেন, কীভাবে সংসদে আরও বেশি কথা বলা যায়— এসব নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়।

লোকসভায় সৌমিত্র খাঁর ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করা হয়। তিনি সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হন এবং তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কেও পিছপা হন না। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “লোকসভায় সৌমিত্র খুব ভালো কাজ করছে। বিভিন্ন বিষয়ে সে সাহসের সঙ্গে কথা বলছে।” এই কথা বলার সময় তিনি সুকান্তের দিকে তাকান। সুকান্তও সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়েন।

এরপর শুভেন্দু প্রশ্ন করেন, “অন্যান্য সাংসদরা কেন কথা বলছেন না?” দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা কিছু বলতে চাইলে শুভেন্দু তাঁর বক্তব্যের মাঝেই আবার কথা বলতে শুরু করেন, ফলে বিস্তা থেমে যান। পাশে বসেছিলেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। ভাইকে কিছুটা অপ্রস্তুত দেখালেও, দাদা শুভেন্দু তাঁকে উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, “সৌমেন্দু এখন দেখছে-শিখছে, এক বছর পর থেকে সক্রিয় হবে। কিন্তু বাকিরা তো সবাই অভিজ্ঞ! তাঁদের আরও বেশি সরব হওয়া উচিত।”

সাংগঠনিক আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বৈঠকের শেষে সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, “দিল্লিতে মন্ত্রী হিসেবে আমি একটি বড় বাংলো পেয়েছি, সেটির সদ্ব্যবহার করছি। এখন থেকে প্রতি অধিবেশনের সময় আমরা এখানে বৈঠক করব।” তিনি আরও জানান, সংসদে নতুন সাংসদদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অভিজ্ঞ সাংসদদের কাছ থেকে নতুনরা কীভাবে শিখতে পারেন, সে বিষয়েও কথা হয়েছে।

সুকান্তর দ্বিতীয় মেয়াদ ও রাজনৈতিক জল্পনা

বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে বঙ্গ বিজেপির ভবিষ্যৎ। দিল্লির এই জমায়েত কি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত বলেন, “আপনারা যা খুশি ভাবতে পারেন। এটা বিদায় সংবর্ধনাও হতে পারে, আবার নতুন শুরুও হতে পারে। আমার কাছে দুটোই সমান।”

উপসংহার

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠক যে শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে সংসদে বিজেপি সাংসদদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা, দলীয় সমন্বয় এবং ভবিষ্যতের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করাই ছিল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। বঙ্গ বিজেপির এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের উদ্বেগ, ইউনূস প্রশাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *