অভিষেক–সূর্যের ঝড়ে কিউয়িদের উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জিতে নিল ভারত!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দল যেন একেবারে আলাদা ছন্দে। গুয়াহাটিতে রবিবার সেই ছন্দেরই দুরন্ত প্রদর্শন করলেন অভিষেক শর্মা ও সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ১০ ওভারেই নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে দিল ভারত, সঙ্গে গত দু’টি সিরিজ়ে (টেস্ট ও এক দিনের) হারের জবাবও চুকিয়ে দিল দাপটের সঙ্গে।
প্রথমে ব্যাট করে নিউ জ়িল্যান্ড ৯ উইকেটে তুলতে পারে ১৫৩ রান। লক্ষ্যটা যে খুব বড় নয়, তা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটাররা যে এত দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেবেন, তা হয়তো কিউয়িরাও ভাবেনি। জবাবে মাত্র ১০ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৫ রান তুলে নেয় ভারত। আট উইকেটের জয়ে সিরিজ়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সূর্যকুমারের দল।
ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারালেও ভারতীয় শিবিরে কোনও উদ্বেগের ছাপ দেখা যায়নি। সঞ্জু স্যামসন ফের শূন্য রানে ফিরলেন, ঈশান কিশনও বড় রান পেলেন না। কিন্তু তাতে কী? অন্য প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছিল অভিষেক শর্মার তাণ্ডব। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার। দু’জনে মিলে যেন নিউ জ়িল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে খেলাচ্ছলে ছিন্নভিন্ন করে দেন।
মাত্র ১৪ বলে অর্ধশতরান—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম পঞ্চাশের নজির গড়লেন অভিষেক। শতরান করার সুযোগ পেলেন না, কারণ ম্যাচটাই শেষ হয়ে গেল! ২০ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট? চোখ কপালে ওঠার মতো—৩৪০। খেলা শেষে গ্লেন ফিলিপ্স পর্যন্ত অভিষেকের ব্যাট হাতে নিয়ে দেখলেন, যেন বুঝতে চাইছিলেন, এই ব্যাটে এমন কী জাদু আছে!
সূর্যকুমারও পিছিয়ে থাকলেন না। ২৬ বলে ৫৭ রানের ঝলমলে ইনিংসে মারলেন ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। দু’জনের জুটিতে এল ১০২ রান। প্রতি ওভারে ১৫-১৬ রান তুলে ম্যাচটা একরকম কিউয়িদের হাত থেকেই কেড়ে নিলেন তাঁরা।
এর আগে ভারতীয় বোলারদের দাপটেই বড় রান তুলতে পারেনি নিউ জ়িল্যান্ড। জসপ্রীত বুমরাহ ছিলেন অনবদ্য—১৭ বলে ৩ উইকেট। হার্দিক পাণ্ড্য ও রবি বিষ্ণোইও নিয়মিত আঘাত হানেন। কিউয়িদের হয়ে লড়াই করেন মূলত গ্লেন ফিলিপ্স (৪৮) ও মার্ক চাপম্যান (৩২)।
বিশ্বকাপের আগে অভিষেক, সূর্য, ঈশানদের ফর্ম নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য বড় স্বস্তি। যদিও লোয়ার মিডল অর্ডার এখনও পরীক্ষার মুখে পড়েনি। সিরিজ়ের বাকি ম্যাচগুলোয় সেই দিকটা দেখতেই চাইবেন কোচ। আর নিউ জ়িল্যান্ড? তাদের বোলিং আত্মবিশ্বাস আপাতত বড় ধাক্কা খেয়েছে—বিশ্বকাপের আগে ভাবনার রসদ কম নয়।
বেজিঙে অস্বস্তির ঝড়: শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধেই পরমাণু গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ