দক্ষ ও সংগঠিত কর্মীবাহিনী গড়তে বিজেপির!
সংগঠন বিস্তারের পর এবার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী তৈরিতে জোর দিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় কর্মী প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান ২০২৬’। পশ্চিমবঙ্গেও ইতিমধ্যে রাজ্য ও জেলা স্তরের প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে মণ্ডল স্তরের প্রশিক্ষণ শিবির, যা আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের ১৩১৩টি মণ্ডলে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
বিজেপির সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। আরএসএসের প্রশিক্ষণ শিবিরের আদলে তৈরি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার আবাসিক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। বিকেল ৫টায় শিবিরে যোগ দিয়ে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে থাকতে হবে। অর্থাৎ রাত্রিযাপন বাধ্যতামূলক।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, মণ্ডল কমিটির সদস্য, বিভিন্ন মোর্চার পদাধিকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা বা রাজ্য স্তরের নেতারাও এই শিবিরে অংশ নেবেন। সকলের জন্য একই ধরনের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। বিজেপির মতে, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং একই পরিবেশে থাকা কর্মীদের মধ্যে দলীয় সংহতি ও ‘কার্যকর্তা ভাবনা’ আরও শক্তিশালী করে।
প্রশিক্ষণ শিবিরে মোট আটটি সেশন বা ‘সত্র’ থাকবে। সেখানে দলের আদর্শ, ইতিহাস, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, কর্মীদের আচরণবিধি, বিজেপি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সমাজমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, নমো অ্যাপ ও সরল অ্যাপ, বুথ ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রতিটি সেশনের জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম ৪০ মিনিট বক্তারা বিষয় উপস্থাপন করবেন এবং পরবর্তী ২০ মিনিট কর্মীদের প্রশ্নোত্তরের জন্য বরাদ্দ থাকবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই দ্বিমুখী আলোচনার পদ্ধতি কর্মীদের আরও সক্রিয় ও সচেতন করে তুলবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ অনেকটাই সিপিএমের একসময়ের ‘পার্টি ক্লাস’-এর মতো। দলীয় আদর্শ, আচরণবিধি, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং জনসংযোগের কৌশল সম্পর্কে কর্মীদের প্রশিক্ষিত করার জন্য সিপিএম দীর্ঘদিন এই ধরনের কর্মসূচি চালাত। বিজেপিও এখন একই ধরনের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল অর্থসংস্থান। দলীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিবির পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য তহবিল থেকে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে না। স্থানীয় স্তরে স্বেচ্ছা অনুদান এবং কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতার মাধ্যমেই শিবিরের আয়োজন করতে হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জমা দিতে হবে। তবে থাকা-খাওয়া, ব্যাগ, ডায়েরি, কলম, উত্তরীয় ও অন্যান্য আয়োজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ স্থানীয় স্তরেই সংগ্রহ করতে হবে।
বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, প্রতিকূল সময়ে সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাই সংগঠনকে আরও স্বনির্ভর ও জনভিত্তিক করে তোলাই এই প্রশিক্ষণ মহাঅভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?