ঢাকার স্কুলে বিমান ভেঙে পড়া!
ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি স্কুলে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। দুর্ঘটনার শিকার ওই বিমানের পাইলট নিহত হয়েছিলেন ঘটনাস্থলেই। এবার মৃত্যু হল আরও এক ব্যক্তির, যিনি দুর্ঘটনার সময় স্কুলের মাঠে ছিলেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দু’জন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল মঙ্গলবার সকালে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার একটি স্কুল চত্বরে ভেঙে পড়ে। স্কুলে তখন ক্লাস চলছিল। ছাত্রছাত্রীদের মাঝে হঠাৎই আকাশ থেকে আগুনের গোলার মতো নামল বিমানটি। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, ধোঁয়া, আতঙ্ক আর কান্নায় মুহূর্তে স্কুলজুড়ে নেমে আসে বিভীষিকা।
প্রথমে জানা গিয়েছিল, পাইলট মেজর মোহাম্মদ নাসির উল্লাহ্ শাহিদ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি একা ছিলেন বিমানে। পরে জানা যায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সেই তালিকায়ই ছিলেন মোহাম্মদ খোরশেদ নামে এক ব্যক্তি, যিনি স্কুল চত্বরে কাজ করতেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে আরও তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি অনেকটা নিচু দিয়ে উড়ছিল। হঠাৎই শব্দ করে নামতে শুরু করে এবং স্কুল ভবনের পাশের মাঠে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় বিমানটিতে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও দাউদাউ আগুন। ছাত্রছাত্রীরা দৌড়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। স্কুলের শিক্ষক, কর্মচারীরা দ্রুত শিশুদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারাও ছুটে আসেন উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে।
বিমানবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিল, এবং ওই সময় মেজর নাসির একাই ফ্লাইটে ছিলেন। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিমানের ব্ল্যাকবক্স খোঁজার কাজও চলছে।
বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের সব রকম সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু ক্ষয়ক্ষতি নয়, শিশুদের মনেও স্থায়ী দাগ ফেলে যায়। অনেক অভিভাবকই এখন স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। সরকার ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে স্কুল এলাকায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, প্রশিক্ষণ হোক বা যুদ্ধে ব্যবহৃত—যুদ্ধবিমানের ব্যবহার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। মানবজীবনের ঝুঁকি যেন কোনওভাবে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না ফিরে আসে, সেটাই এখন সবার কাম্য।
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’