ঢাকায় ফের অগ্নিগর্ভ রাত: উড়ালপুল থেকে ককটেল হামলা, এক যুবকের মৃত্যুতে নতুন করে আতঙ্ক

ঢাকায় ফের অগ্নিগর্ভ রাত! বুধবার রাত নামতেই আবার অশান্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নিউ ইস্কাটনে ককটেল বিস্ফোরণে…

December 25, 2025
1 min read

ঢাকায় ফের অগ্নিগর্ভ রাত!

বুধবার রাত নামতেই আবার অশান্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নিউ ইস্কাটনে ককটেল বিস্ফোরণে প্রাণ গেল এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে মগবাজার ফ্লাইওভারের কাছে— আর তা এমন এক সময়ে, যখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টা বাকি।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বুধবার রাত পৌনে আটটা নাগাদ নিউ ইস্কাটনের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ফটকের সামনে আচমকাই একটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ঢাকা পুলিশের রমনা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, উড়ালপুলের উপর থেকে ককটেলটি ছোড়া হয়েছিল। বিস্ফোরণের অভিঘাতে গুরুতর আহত হন এক যুবক। দ্রুত সাহায্য পৌঁছলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম সিয়াম বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুর পর থেকেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই আহ্বানের খুব একটা প্রতিফলন দেখা যায়নি।

হাদির মৃত্যুর পর উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে একের পর এক জায়গায়। সরকারি ভবন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সদর দফতর— কোথাও রেহাই মেলেনি। এমনকি গত বছর ধ্বংস হয়ে যাওয়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি, যেখানে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, সেখানেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল, হিংসার আগুন ছুঁয়েছে সংবাদমাধ্যম ও সংস্কৃতির জগতকেও। ঢাকায় ‘প্রথম আলো’ এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর দফতরে ভাঙচুরের পর আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। খুলনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ময়মনসিংহে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে এক সংখ্যালঘু যুবককে।

সংস্কৃতিক অঙ্গনও রেহাই পায়নি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের দফতরে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, কট্টরপন্থী স্লোগান দিতে দিতে সংগঠিত ভাবে সেখানে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে বাদ্যযন্ত্র, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বই ও ছবি— এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং লালনের ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছায়ানটের নববর্ষ উৎসব ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলেও, গত বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপনের বিরোধিতা করে আসছে।

সব মিলিয়ে, এক যুবকের মৃত্যু দিয়ে শুরু হলেও ঢাকার এই অশান্ত রাত যেন আরও গভীর উদ্বেগের ছবি তুলে ধরল। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সহিংসতা আর সাংস্কৃতিক পরিসরে আঘাত— সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

I prefer this response

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *