ঢাকায় তারেকের সঙ্গে দীনেশের বৈঠক!!
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার ঢাকায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন সে দেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশের সচিবালয়ে দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ দু’জনের মধ্যে এই বৈঠক হয়। জুন মাসে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তারেকের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ করলেন দীনেশ।
বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্প্রতিক টানাপড়েন এবং শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি বৈঠকে তুলেছেন তারেক। যদিও ভারতীয় দূতাবাসের বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনও বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ব্রিক্স সম্মেলনে কি যাবেন তারেক?
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন হওয়ার কথা। সেখানে তারেক রহমানের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে তারেকের ভারত সফরের সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ।
তবে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ব্রিক্স সম্মেলনে তারেক যোগ দেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে সোমবারের বৈঠকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত কোনও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দীনেশ বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে কোনও বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তাঁর কথায়, দুই দেশের মানুষের স্বার্থই মূল বিষয় এবং সম্পর্ক ভাল রাখার পথ আলোচনার মাধ্যমেই তৈরি হয়।
হাসিনা-ইস্যুতে ফের চাপানউতর
সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, ওই সাংবাদিক বৈঠকের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।
অন্য দিকে, বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, ভারতে অবস্থান করে হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তারেকের ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের অগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আসেন হাসিনা। পরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তিকালীন সরকার গঠিত হলে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে শৈত্য তৈরি হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবশ্য সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছিল।
এই পরিস্থিতিতে তারেক-দীনেশের সোমবারের সাক্ষাৎ নতুন করে আশার আলো দেখালেও, হাসিনা-সহ একাধিক বিতর্কিত বিষয় কতটা মিটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে তারেকের ভারত সফরের পথ সত্যিই খুলছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।