চেন্নাইকে উড়িয়ে দিল কোহলির বেঙ্গালুরু!
আইপিএলের দক্ষিণী ডার্বি আবারও চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য দুঃস্বপ্নের হয়ে উঠল। পাঁচবারের ট্রফিজয়ী চেন্নাই এই মরশুমে হারের হ্যাটট্রিক রেকর্ড করল, কারণ রুতুরাজ, সঞ্জু স্যামসনসহ ব্যাটিং আক্রমণ ও বোলিংয়ে পুরো দলের দুর্বলতা বেঙ্গালুরুর কাছে রুখে দাঁড়াতে পারল না।
বেঙ্গালুরু প্রথমে ব্যাট করে ২৫০/৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। জবাবে চেন্নাই থেমে গেল ২০৭ রানে। এই জয়ের সঙ্গে কোহলির দল টানা দুটি ম্যাচ জিতে নিজেদের ফর্ম ধরে রাখল।
বেঙ্গালুরু ব্যাটিং: ডেভিড-কার্যক্রম, পডিক্কল-সল্টের দাপট
প্রথম দিকে বেঙ্গালুরুতে শুরুর ধকল সামলাতে কোহলি-সল্টের ব্যাটিং ধীরে এগোছিল। প্রথম তিন ওভারে উঠল মাত্র ১৭ রান। তবে চতুর্থ ওভারে কোহলি ম্যাট হেনরির দ্বিতীয় বল ছক্কায় মাটিতে থমকে দিয়েছিলেন দর্শকদের। এরপর ফিল সল্ট, দেবদত্ত পডিক্কল এবং টিম ডেভিড একের পর এক আগ্রাসী শট খেলতে শুরু করে।
ডেভিডের প্রত্যেকটি শট ছিল মারাত্মক—১৭তম ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকালেন, যার মধ্যে একটি ৮২ মিটার স্টেডিয়ামের বাইরে গেল। পডিক্কল ২৯ বলে ৫০ রান করে দেখালেন কেন তিনি এই মরসুমে ফর্মে রয়েছেন। সল্টও ৩০ বলে ৪৬ রান করে দলের জয়ের ভিত্তি স্থাপন করলেন। কোহলি নিজে বড় রান না পেলেও, তিনিও ছিলেন টিমের নেতৃত্বে ক্রিজে আত্মবিশ্বাসী।
চেন্নাই ব্যাটিং: ভঙ্গুর হারের কারণ
চেন্নাইয়ের ব্যাটিং আগ্রাসন ছিল ফাঁপা। সঞ্জু স্যামসন ৫ বলে মাত্র ৯ রান করে আউট হন, রুতুরাজ ৭ এবং কার্তিক শর্মা ৬ রানে ব্যর্থ। পাওয়ার প্লেতে ৩০ রানেই ৩ উইকেট হারানো চেন্নাই টার্গেট তাড়া করতে পারল না।
একজন হিসেবে সরফরাজ় খান ২৫ বলে ৫০ রান করেন, প্রশান্ত বীর ২৯ বলে ৪৩ রান যোগ করেন। তবে বড় জুটি না হওয়ায় চেন্নাই কখনোই ম্যাচে ফিরে আসতে পারেনি।
বোলিংয়ের দুর্বলতা
চেন্নাইয়ের বোলিংও যে কোনো বড় রান থামাতে ব্যর্থ, তা দেখা গেছে। ম্যাট হেনরি, খলিল আহমেদ, অংশুল কম্বোজ এবং নূর আহমেদের বোলিংরোধে বেঙ্গালুরু দলের ব্যাটাররা কোনো বাধা দেখল না। ২০০+ স্কোর তাড়া করা সম্ভব হয়নি।
ম্যাচের চাবিকাঠি
- বেঙ্গালুরু ২৫০/৩
- চেন্নাই ২০৭ all out
- কোহলি দলের নেতৃত্বে, ব্যাটিংতে বড় অবদান নেই
- ডেভিড, পডিক্কল, সল্ট এবং পাটীদারের আগ্রাসন ম্যাচের রূপ পাল্টে দিল
- চেন্নাই ব্যাটিং ও বোলিং উভয়েই ভঙ্গুর
চেন্নাইয়ের জন্য এই হ্যাটট্রিক হার অবশ্যই সতর্কবার্তা। বেঙ্গালুরু নিজেদের ফর্ম ধরে রেখে দক্ষিণী ডার্বিতে একপেশে জয় তুলে দেখাল, কিভাবে আগ্রাসী ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের মিলেই বড় জয় সম্ভব।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না