অবসরের পর কেন উইলিয়ামসনকে আবেগঘন বার্তা বিরাট কোহলির!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন নিউজ়িল্যান্ডের অন্যতম সেরা ব্যাটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুক্রবার তাঁর অবসর ঘোষণার পর ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে আবেগের ঢেউ দেখা যায়। শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধাবার্তার ভিড়ে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে বিরাট কোহলির বার্তা।
এক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘ফ্যাব ফোর’-এর অন্যতম দুই সদস্য ছিলেন কোহলি ও উইলিয়ামসন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের বাইরে তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে পরিচিত বিষয়। সেই বন্ধুত্বের কথাই স্মরণ করেছেন ভারতীয় তারকা।
সামাজিক মাধ্যমে কোহলি লিখেছেন, “বিগত কয়েক বছরে আমরা প্রতিপক্ষ থেকে বন্ধু হয়ে উঠেছি। তোমাকে ব্যাট করতে দেখা এবং এত বছর তোমার বিরুদ্ধে খেলতে পারা আমার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে তার থেকেও বেশি মূল্যবান আমাদের বন্ধুত্ব এবং মাঠের বাইরের নানা আলোচনা। যতবার দেখা হয়েছে বা কথা হয়েছে, সেই মুহূর্তগুলো সবসময় মনে থাকবে।”
উইলিয়ামসনের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে কোহলি আরও লেখেন, “তুমি তোমার কাজ দারুণভাবে করে দিয়েছ ভাই। এখন উপভোগ করার সময়। জীবন তো সবে শুরু হল।”
উইলিয়ামসনের অবসরের ঘোষণায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ চলাকালীন এমন সিদ্ধান্ত খুব কমই দেখা যায়। তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
২০১০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদ টেস্টে অভিষেক হয়েছিল উইলিয়ামসনের। প্রথম ম্যাচেই শতরান করে নিজের আগমনের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন নিউজ়িল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটারদের একজন।
টেস্ট ক্রিকেটে ১১০ ম্যাচে ৯,৫১৫ রান করেছেন তিনি। রয়েছে ৩৩টি শতরান ও ৩৮টি অর্ধশতরান। এক দিনের ক্রিকেটেও তাঁর অবদান অসাধারণ— ১৭৫ ম্যাচে ৭,২৫৬ রান, সঙ্গে ১৫টি শতরান ও ৪৭টি অর্ধশতরান।
শুধু ব্যাটার হিসেবেই নয়, অধিনায়ক হিসেবেও উইলিয়ামসনের সাফল্য অনন্য। তাঁর নেতৃত্বে নিউজ়িল্যান্ড ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলেছিল কিউইরা। একই বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে নিউজ়িল্যান্ড, যেখানে অধিনায়ক ছিলেন উইলিয়ামসন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেও খেলাটির ইতিহাসে তাঁর নাম থেকে যাবে অন্যতম সেরা ব্যাটার, নেতা এবং ভদ্র ক্রিকেটার হিসেবে। আর সেই কারণেই তাঁর বিদায়ে শুধু নিউজ়িল্যান্ড নয়, আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছেন বিরাট কোহলির মতো দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও বন্ধুদেরও।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?