ডায়াবিটিস হলেও বিজয়ার মিষ্টি খেতে পারবেন!
বাঙালির মিষ্টিপ্রেম চিরকালীন—উৎসব হোক বা মন খারাপের মুহূর্ত, মিষ্টি সবসময়ই আমাদের সঙ্গী। তবে ওজন বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক বয়স্ক বাবা-মা ও ডায়াবিটিস রোগীরাই উৎসবের মিষ্টি উপভোগ করতে পারেন না। তবে চিন্তার কিছু নেই, বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর মিষ্টি। এখানে তিনটি সহজ রেসিপি দেওয়া হল, যা ডায়াবিটিস রোগীরাও নিরাপদে খেতে পারেন।
১) মাখানার ক্ষীর
মাখানা প্রোটিন, ক্যালশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ। যদি মাখানা দিয়ে ক্ষীর বানান, তা খেতে হবে ঠিক বাঙালি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী ক্ষীরের মতোই স্বাদে কিন্তু আরও স্বাস্থ্যকর।
প্রণালী:
- এক চামচ ঘি গরম করে এক কাপ মাখানা ভালোভাবে রোস্ট করুন।
- রোস্ট করা মাখানাগুলি গুঁড়ো করে নিন।
- চার কাপ দুধের সঙ্গে মাখানা মিশিয়ে কম আঁচে ১৫–২০ মিনিট ফোটান।
- পায়েস ঘন হলে পরিবেশন করুন।
এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার ভয় নেই, তাই ডায়াবিটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারেন।
২) বেকড বেসন লাড্ডু
বেসন বা চنےয়ের আটা দিয়ে তৈরি এই লাড্ডুও সুগার ফ্রিতে সহজে বানানো যায়।
প্রণালী:
- কড়াইতে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে বেসন নাড়াচাড়া করুন।
- স্বাদের জন্য সামান্য থেঁতো করা এলাচ দিন।
- খোসা ছেঁকে নেওয়া কাজু ও কাঠবাদামের কুচি মিশিয়ে নিন।
- মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য স্টিভিয়ার গুঁড়ো ব্যবহার করুন।
- সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে লাড্ডুর আকার দিন।
এভাবে তৈরি লাড্ডুতে চিনির প্রয়োজন নেই, তবু স্বাদে কম নয়।
৩) চিয়া পুডিং
চিয়া বীজ দিয়ে তৈরি পুডিং ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য এক দারুণ বিকল্প।
উপকারিতা:
- অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফাইবার ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ।
- হজম শক্তি বাড়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ সঠিকভাবে পেট ভর্তি রাখে।
প্রণালী:
- চিয়া বীজ এক রাতে দুধ বা বাদামের দুধে ভিজিয়ে রাখুন।
- সকালে এক চামচ বাদাম, কাঠবাদাম বা মৌসুমি ফল দিয়ে পরিবেশন করুন।
এই তিনটি মিষ্টি সহজ, স্বাস্থ্যকর এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ানোর ভয় নেই। তাই এবার বিজয়ার দিন বয়স্ক বাবা-মা কিংবা ডায়াবিটিস রোগীদেরও উৎসবের মিষ্টি উপভোগ করতে পারেন নিরাপদে।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা