বাণিজ্য আলোচনায় মুখোমুখি ভারত-আমেরিকা!
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে আলোড়ন তোলে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় জল্পনা— তবে কি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা থমকে যাবে?
কিন্তু সেই সব প্রশ্নকে আপাতত পাশে সরিয়ে রেখে, দুই দেশ আবারও এক টেবিলে বসলেন বাণিজ্যচুক্তির আলোচনায়। ১৭ মে থেকে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে চার দিনের বৈঠক। ভারতের পক্ষে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, আর আমেরিকার পক্ষে বাণিজ্যসচিব হোয়ার্ড লুটনিক।
সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে গোয়েল জানালেন, আলোচনায় আশাপ্রদ অগ্রগতি হয়েছে। দু’জনের হাসিমুখে করমর্দনের সেই ছবি যেন বোঝাচ্ছে— দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের পথে ফিরতে চাইছে। যদিও নির্দিষ্টভাবে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন যে, অ্যাপল যাতে ভারতে আর পণ্য উৎপাদন না করে, সেই পরামর্শ তিনি দিয়েছেন অ্যাপল কর্তা টিম কুককে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত নাকি আমেরিকাকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যচুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। এই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাণিজ্যচুক্তি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটি হতে হবে পারস্পরিক লাভজনক এবং ভারসাম্যপূর্ণ।”
বস্তুত, গত কয়েক মাস ধরেই ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। কখনও ভারতীয় প্রতিনিধিরা গেছেন আমেরিকায়, কখনও বা মার্কিন কূটনীতিকরা এসেছেন ভারতে। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এই প্রথম দুই দেশ ফের আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসল।
‘ব্লুমবার্গ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং দুই দেশ আশা করছে, জুলাই মাসের মধ্যেই অন্তত প্রথম ধাপের কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে। এই চুক্তিতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, কৃষিপণ্য আমদানি ও ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
যদিও বৈঠকের সূক্ষ্ম বিবরণ এখনই প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবু এতদিনের টানাপোড়েনের পরে এমন ইতিবাচক বার্তা নিঃসন্দেহে উভয় দেশের পক্ষে স্বস্তির। আন্তর্জাতিক মহলেও নজর এখন এই আলোচনার ফলাফলের দিকে— দেখা যাক, ট্রাম্প বিতর্ক পেরিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা এগোয় নতুন দিগন্তের দিকে।
“শাহরুখ আসলে খুবই মধ্যবিত্ত মানুষ” — বলিউডের বাদশাহর এমন গুণ দেখে মুগ্ধ পরিচালক অনুভব সিন্হা