ট্রাম্প ঘনিষ্ঠের ভারতবিরোধী মন্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে মুখ খুললেন ইলন মাস্ক

অবশেষে মুখ খুললেন ইলন মাস্ক আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা পিটার নাভারোর ভারতবিরোধী মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সেই বিতর্কে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া…

September 8, 2025
1 min read

অবশেষে মুখ খুললেন ইলন মাস্ক

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা পিটার নাভারোর ভারতবিরোধী মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সেই বিতর্কে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। নাভারোর অভিযোগ ছিল, তাঁর পোস্টে ভারতপন্থী মন্তব্য ঢুকিয়ে দিয়ে আসলে মাস্ক নিজেই প্রচার চালাচ্ছেন। অবশেষে এই নিয়ে মুখ খুললেন মাস্ক।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। নাভারো তাঁর এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য দায়ী ভারত। তাঁর মতে, ভারত শুধুমাত্র নিজের লাভের স্বার্থে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনছে, যার ফলে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থ পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভারতের শুল্কনীতির কারণে বহু মার্কিন নাগরিক কাজ হারাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাভারোর এই পোস্টের নীচে এক্স-এর পক্ষ থেকে একটি মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। সেখানে পাঠকদের উদ্দেশে লেখা হয়— ‘‘ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য, শুধু মুনাফার জন্য নয়। এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে না। আসলে, আমেরিকাই এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু কিছু জিনিস কেনে। তাই এ ধরনের অভিযোগ ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।’’

এই মন্তব্য প্রকাশিত হতেই ক্ষুব্ধ হন নাভারো। তিনি সরাসরি মাস্ককে দায়ী করে লেখেন, ‘‘বাহ্‌! মাস্ক এখন নিজের বক্তব্য মানুষের পোস্টে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। ভারত কেবল লাভের জন্য তেল কিনছে। এর ফলে ইউক্রেনের মানুষ মরছে আর আমেরিকানদের চাকরি যাচ্ছে।’’ তাঁর এই বক্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেয় এক্স। সেখানে লেখা হয়, ‘‘নাভারোর দাবি ভণ্ডামি। ভারতের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই নেওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ভারতকে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়ার ইউরেনিয়ামসহ নানা জিনিস কিনছে। আসল দ্বিচারিতা করছে তারাই।’’

বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন মুখ খোলেন মাস্ক নিজে। তিনি সরাসরি নাভারোর নাম না করে জানান, এক্স-এ কথোপকথনের ধরণ নির্ধারণ করেন সাধারণ ব্যবহারকারীরাই। তাঁর ভাষায়, ‘‘এই প্ল্যাটফর্মে কীভাবে আলোচনা হবে, তা ঠিক করে জনগণ। আমরা সব পক্ষের কথা শুনি। আমাদের ‘কমিউনিটি নোট’ সবার ভুল শুধরে দেয়। এ ক্ষেত্রে কোনও ব্যতিক্রম নেই।’’ তিনি আরও জানান, তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে— গ্রোক, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধান করে নিশ্চিত করে।

প্রসঙ্গত, আমেরিকা ভারতের উপর ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ট্রাম্প শিবিরের দাবি, ভারতের এই তেল কেনার কারণেই রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে। তবে নয়াদিল্লি শুরু থেকেই নিজের অবস্থানে অনড়। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই বাণিজ্যনীতি স্থির হয়, তাই রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় তেল কেনা বন্ধ করা হবে না।

এই পরিস্থিতিতে এক্স-এর হস্তক্ষেপ যেন ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় সমর্থন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে, আমেরিকার দ্বিচারিতার দিকও প্রকাশ্যে এসেছে। মাস্কের প্ল্যাটফর্ম এ বার যেন এক প্রকার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠল সেই সব দেশের, যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার পথে দমে যেতে রাজি নয়।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *