ট্রাম্পের রোষে ব্রাজ়িল!
ব্রাজ়িলের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসেনারোর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চালানোয় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই জেরে তিনি ঘোষণা করেছেন, ব্রাজ়িল থেকে আমেরিকায় রফতানি হওয়া পণ্যের উপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২০২৫ সালের ১ অগস্ট থেকে, ফলে ব্রাজ়িলীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৬০ শতাংশ।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্রাজ়িলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিয়ো লুলা দ্য সিলভা বলেন, ‘‘ব্রাজ়িল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা অন্য কোনও দেশের নির্দেশ বা অভিভাবকত্ব মেনে চলি না।’’ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একতরফা শুল্ক আরোপ হলে ব্রাজ়িলও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক চাপাবে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, বোলসেনারোর বিরুদ্ধে বিচার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, ব্রাজ়িলে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘‘শ্রদ্ধেয় বোলসেনারোর সঙ্গে যে ব্যবহার করা হচ্ছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এই বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া উচিত।’’
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুলার কাছে হেরে গিয়েছিলেন কট্টর ডানপন্থী বোলসেনারো। ফল ঘোষণার পর তাঁর সমর্থকেরা ব্রাজ়িলের সংসদ ভবনে হামলার চেষ্টা করেন, যার জেরে শুরু হয় তদন্ত। ২০২৩ সালে সুপ্রিম ইলেকটোরাল কোর্ট জানায়, পরবর্তী আট বছর কোনও নির্বাচনে লড়তে পারবেন না বোলসেনারো।
ট্রাম্পের অভিযোগ, বোলসেনারোকে রাজনীতি থেকে সরাতে আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি আমেরিকার সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলির উপর ব্রাজ়িলের আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে লুলা পাল্টা দাবি করেন, বিচারবিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং তাঁর সরকারের এতে কোনও ভূমিকা নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, ব্রাজ়িল নয়, বরং আমেরিকাই ব্রাজ়িলের থেকে বেশি লাভবান হয়েছে গত ১৫ বছরের বাণিজ্যে। তাই আমেরিকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ট্রাম্প শুধু ব্রাজ়িল নয়, আরও ছ’টি দেশের উপর নতুন শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন। আলজেরিয়া, ইরাক, লিবিয়া ও শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রুনেই ও মলডোভার পণ্যে ২৫ শতাংশ এবং ফিলিপাইনসের পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক চাপবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রদের রক্ষায় এবং বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার অজুহাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ব্রাজ়িল-আমেরিকা সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে। তবে একাধিক দেশকে একসঙ্গে শুল্কের বেড়াজালে ফেলে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিলেন—মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধাচরণ করলে তার মাশুল গুনতে হবে।
‘পুতিনের কাজে খুশি নই’: ট্রাম্পের ক্ষোভ, রাশিয়ার উপর ফের নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত