মোদীর সঙ্গে ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ ঘিরে জল্পনা
এ বছর ভারতে আয়োজিত হতে চলা কোয়াড (QUAD) সম্মেলনকে ঘিরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসার কথা থাকলেও, হঠাৎ করেই তিনি সফর বাতিল করেছেন বলে খবর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, ট্রাম্প এ বছর আর ভারতে আসছেন না। এমনকি কোয়াড সম্মেলনেও তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা নয়াদিল্লি কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কোয়াড মূলত ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং আমেরিকা—এই চারটি দেশের একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যেখানে প্রতি বছর সদস্য দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতি বছর পালাক্রমে কোনও না কোনও সদস্য রাষ্ট্রে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ বছর ভারতের মাটিতে এই বৈঠক হওয়ার কথা, এবং সেই মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। জুন মাসে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল যে ট্রাম্প আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং যথাসময়ে ভারত সফরে আসবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সূত্র জানাচ্ছে, হোয়াইট হাউসের ক্যালেন্ডারে এখন আর এই সফরের কোনও পরিকল্পনা নেই।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মোদী-ট্রাম্পের একটি টানা ৩৫ মিনিটের ফোনালাপ, যা গত জুনে হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর দাবি, সেই কথোপকথনের পর থেকেই দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যদিও ফোনালাপে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তা প্রকাশ্যে আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে যে সেই আলোচনাই হয়তো সফর বাতিলের মূল কারণ।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক বিগত কয়েক বছরে অনেক ক্ষেত্রেই গভীরতা পেয়েছে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে। তাই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষকের কাছে বিস্ময়কর। কোয়াডকে চীন-প্রভাবিত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে ধরা হয়। ফলে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি এই বৈঠকের গুরুত্বকে কিছুটা হলেও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে মত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লি এখনও এ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে। ভারতের জন্য কোয়াড সম্মেলন শুধু প্রতীকী নয়, বরং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই হঠাৎ পরিবর্তন যে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
ট্রাম্প ভারতে না এলেও সম্মেলন যে ভারতের মাটিতেই হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন নজর সবার, এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোয় তার দিকেই।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী