মহড়ায় আমেরিকার অনুপস্থিতি?
ডেনমার্কের আয়োজিত সামরিক মহড়া ‘আর্কটিক লাইট ২০২৫’ ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বহু বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার সেনার সঙ্গে যৌথ মহড়া করেছে ডেনমার্ক, কিন্তু এবারের আয়োজন থেকে সরাসরি বাদ দেওয়া হলো মার্কিন সেনাবাহিনীকে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে— ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-কেন্দ্রিক নীতি কি এর মূল কারণ?
ডেনমার্ক সেনার আর্কটিক কমান্ডার সোরেন অ্যান্ডারসেন জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলেও, আমেরিকার কোনও সামরিক ইউনিটকে এবার অংশ নিতে বলা হয়নি। এমন সিদ্ধান্ত বিরল, বিশেষ করে নেটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের ইঙ্গিত। কারণ এর নেপথ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীনই গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এমনকি নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত করবেন। সেই সময় থেকেই কোপেনহাগেন-ওয়াশিংটন সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ট্রাম্প আরও সরব হন। শুধু ক্রয় নয়, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করেও গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয় শুধু ডেনমার্ক নয়, বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারাও।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে হলেও এই দ্বীপটি ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। এখানে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ বাস করেন। দ্বীপটির নিজস্ব প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ কাজ ও উন্নয়নের দায়িত্ব সামলালেও, প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি সম্পূর্ণ ডেনমার্ক সরকারের অধীনে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের অধিকার স্বীকৃত।
কিন্তু ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল অন্যরকম। দেশের পরিসর বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানানোর চেষ্টা করেন তিনি। এই ইচ্ছা প্রকাশ্যে আসতেই ইউরোপীয় মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়। ডেনমার্ক দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেয়, তারা দ্বীপের উপর থেকে নিজেদের অধিকার ছাড়বে না।
এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে এক প্রকার কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়নি মার্কিন সেনাকে, যা সরাসরি বোঝাচ্ছে— কোপেনহাগেন এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দূরত্ব তৈরি করছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেটোর ভেতরে থাকা সত্ত্বেও ডেনমার্কের এই অবস্থান ভবিষ্যতে জোটের সম্পর্কের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ আর্কটিক অঞ্চল শুধু ভূ-রাজনৈতিক নয়, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সামরিক উপস্থিতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা।
সব মিলিয়ে, ডেনমার্কের মহড়া থেকে মার্কিন সেনাকে বাদ দেওয়া নিছক সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক অস্থিরতারই প্রতিফলন। আর সেই অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর বিতর্কিত ‘গ্রিনল্যান্ড নীতি’।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ