ট্যাংরার দে বাড়িতে সব সিসিটিভি বন্ধ! দুর্ঘটনা, খুন না আত্মহত্যা— কী লুকোতে চাইছে দুই ভাই?

ট্যাংরার দে বাড়িতে সব সিসিটিভি বন্ধ! কলকাতার ট্যাংরায় প্রণয় ও প্রসূন দে-র চারতলা বাড়ি যেন রহস্যের আখড়া। পুরো বাড়ি সিসিটিভির নজরদারিতে থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে সব ক্যামেরাই বন্ধ ছিল! ঠিক এমন একটা…

February 21, 2025
1 min read

ট্যাংরার দে বাড়িতে সব সিসিটিভি বন্ধ!

কলকাতার ট্যাংরায় প্রণয় ও প্রসূন দে-র চারতলা বাড়ি যেন রহস্যের আখড়া। পুরো বাড়ি সিসিটিভির নজরদারিতে থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে সব ক্যামেরাই বন্ধ ছিল! ঠিক এমন একটা সময়ে যখন বাড়ির দুই বধূ এবং এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, তখন কীভাবে ক্যামেরাগুলি বন্ধ হয়ে গেল?

শুক্রবার, এই রহস্য উন্মোচনে ফরেনসিক দল পৌঁছেছিল দে পরিবারের বাড়িতে। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায়নি, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলছে।


সিসিটিভি থাকলেও কেন নেই কোনও ফুটেজ?

প্রণয় ও প্রসূনের এই চারতলা বাড়ি কমপক্ষে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া। শুধু বাড়ির বাইরেই ৬-৭টি ক্যামেরা রয়েছে, ভেতরেও বেশ কয়েকটি ক্যামেরা লাগানো। তাহলে এত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের একটাও ফুটেজ কেন নেই? তদন্তকারীদের অনুমান, ইচ্ছাকৃতভাবেই সিসিটিভি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।

পুলিশের আরও সন্দেহ, বাড়িরই কেউ হয়তো বিশেষ পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সংরক্ষণ করে রেখেছেন বা মুছে ফেলেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে— সেটা কে করল? দুই ভাই নাকি পরিবারের অন্য কেউ?


ঘটনার পেছনে কী রহস্য?

বুধবার ট্যাংরার এই বাড়ির দোতলার দুটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় দুই বধূ রোমি দে ও সুদেষ্ণা দে-র দেহ। পাশের আরেকটি ঘরে পাওয়া যায় ১৪ বছরের কিশোরী প্রিয়ম্বদার নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, তিনজনকেই খুন করা হয়েছে।

কিন্তু কীভাবে?

পুলিশের হাতে এসেছে বাড়ির উল্টো দিকের একটি সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাত ১২টা ৫৮ মিনিটে প্রণয় ও প্রসূন তাদের আত্মীয় কিশোর প্রতীপকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ভোর ৩টের দিকে বাইপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি ধাক্কা মারে মেট্রোর পিলারে। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনজনই এবং এখন আইসিইউ-তে ভর্তি আছেন।

প্রশ্ন হলো, এই তিন ঘণ্টার মধ্যে কী হয়েছিল?


আর্থিক সংকট নাকি পরিকল্পিত কিছু?

তদন্তে জানা গেছে, দে ভাইয়েরা বড়সড় ঋণের ফাঁদে আটকে ছিলেন। ব্যাংক ও অন্যান্য সংস্থা মিলিয়ে অন্তত ছয়টি জায়গায় কয়েক কোটি টাকার দেনা ছিল তাঁদের। এমনকি বাড়িটিও বন্ধক রাখা ছিল!

জেরায় দুই ভাই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, এই আর্থিক চাপের কারণেই তাঁরা আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করলেও তিনজনকে খুন করা হলো কেন?

পুলিশের সন্দেহ, ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতেই কি তাঁরা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে?


তদন্তকারীদের নজর এখন কোথায়?

  • সিসিটিভি ফুটেজ: পুলিশ এবং ফরেনসিক দল এখনও চেষ্টা করছে কোনওভাবেই হারিয়ে যাওয়া ফুটেজ উদ্ধার করা যায় কিনা।
  • দুই ভাইয়ের জবানবন্দি: হাসপাতালের বেডেই চলছে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁরা কী বলছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
  • অর্থনৈতিক লেনদেন: ঋণের কারণেই যদি এই ঘটনা ঘটে থাকে, তবে পুলিশ চাইছে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে।
  • সন্দেহজনক ফুটেজ: বাইরের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের রাতভর ঘোরাঘুরি আরও রহস্যজনক করে তুলছে ঘটনাটিকে।

সব মিলিয়ে…

দে পরিবারের তিনটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে একটার পর একটা রহস্যের জট খুলছে, আবার নতুন প্রশ্ন উঠে আসছে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি কেন কাজ করছিল না, দুই ভাই কেন এত ঋণের ফাঁদে পড়েছিলেন, বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাঁরা রাতভর গাড়িতে কোথায় গিয়েছিলেন— এই সব প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।

গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *