টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ওড়িশা!
টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকা। পর পর ধস নেমেছে অন্তত তিনটি জেলায়, মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই মিলবে না। আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে পুরী-সহ সাতটি জেলায়।
গত কয়েক দিন ধরে ওড়িশার নানা প্রান্তে লাগাতার বৃষ্টি চলছে। শুক্রবার গজপতি, রায়গড়া এবং কোরাপুট জেলায় বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। এর ফলেই এই তিন জেলায় একাধিক জায়গায় ধস নামে। গজপতি জেলার বস্তিগুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ধসে চাপা পড়ে ত্রিনাথ নায়েক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মেরিপল্লি গ্রাম পঞ্চায়েতে ধসে প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মণ নায়েক নামে আরও এক ব্যক্তি। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িও মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন।
মৌসম ভবনের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি থেকে আপাতত মুক্তি নেই ওড়িশাবাসীর। রাজ্যের সাতটি জেলায় — পুরী, গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট, কালাহান্ডি এবং কন্ধমালে — আগামী দিনগুলোতে ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই জেলাগুলিতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৬টি জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, আর বাকি সাতটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
টানা বৃষ্টির প্রভাবে ব্যাহত হয়েছে রেল এবং সড়ক যোগাযোগও। শুক্রবার বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। কিছু ট্রেনের রুটও পরিবর্তন করা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। বিভিন্ন সড়কে জল জমে এবং ধসের কারণে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। ধসকবলিত ও নিম্নচাপপ্রবণ অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোতে এবং নদী-খাল-বিল ও পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বৃষ্টি যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে, তেমনি কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। জল জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বহু এলাকায় চাষিরা ইতিমধ্যেই ক্ষতির হিসেব কষতে শুরু করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল নামানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ শিবিরও খোলা হবে।
টানা বৃষ্টির ফলে ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সামলাতে এখন প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সহযোগিতা সবচেয়ে জরুরি। সতর্ক থাকলে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চললে বড় বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা