টানা বৃষ্টিতে নাজেহাল কলকাতা, জলমগ্ন একাধিক এলাকা; বিমানবন্দরে বজ্রপাতে আহত ২ কর্মী

টানা বৃষ্টিতে নাজেহাল কলকাতা! বর্ষা সক্রিয় হতেই কলকাতার চেনা ছবিটা যেন আবার ফিরে এল। শুক্রবার সকাল থেকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, শুরু হয় দফায় দফায় বৃষ্টি। কোথাও মাঝারি, কোথাও…

June 19, 2026
1 min read

টানা বৃষ্টিতে নাজেহাল কলকাতা!

বর্ষা সক্রিয় হতেই কলকাতার চেনা ছবিটা যেন আবার ফিরে এল। শুক্রবার সকাল থেকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, শুরু হয় দফায় দফায় বৃষ্টি। কোথাও মাঝারি, কোথাও আবার ভারী বর্ষণের জেরে শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে যায়। রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়, ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তা ও মোড়ে জল জমার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড, আমহার্স্ট স্ট্রিট, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, দমদম এবং বাগুইআটির বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যান চলাচলেও। ইএম বাইপাস এবং মা উড়ালপুলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে গাড়ির গতি অনেকটাই কমে যায়।

এরই মধ্যে কলকাতা বিমানবন্দরে ঘটে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। ফ্লাইট থেকে মালপত্র নামানোর সময় বজ্রপাতে আহত হন দুই গ্রাউন্ড স্টাফ। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজনের আঘাত তুলনামূলক কম হলেও অন্যজনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। দু’জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হতে পারে।

বৃষ্টির কারণে শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা জল পাম্পের সাহায্যে সরানোর কাজ শুরু করেছে পুরসভা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মাঠে নামেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

মন্ত্রী জানান, কোথাও জল জমে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে তাঁরা পুরসভার হেল্পলাইন বা সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে। তার জেরেই রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আপাতত অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। ২০ জুন বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

বর্ষার শুরুতেই কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসন যেমন সতর্ক, তেমনই সাধারণ মানুষকেও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার উপর নজর রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *