টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়!
টানা বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্রই বৃষ্টির দাপটে জনজীবন ব্যাহত। তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক, সঙ্কোশ, জলঢাকা, মহানন্দার মতো একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ভুটান পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টির জেরে সীমান্তবর্তী আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ধস নেমে বন্ধ হয়ে গিয়েছে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক। প্রশাসন নদীসংলগ্ন এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁ, হাসিমারা, কালচিনি, হ্যামিল্টনগঞ্জ এবং বানারহাট এলাকা। ভুটানের ফুন্টশিলিং সীমান্ত লাগোয়া বহু জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে জল ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার বিপাকে। ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়কের একটি অংশ চরতোর্ষা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কোচবিহারেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তোর্সা নদীর জল বাড়তে থাকায় মধুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিপুর এলাকায় অন্তত ৫০টি বাড়ি জলের তলায় চলে গিয়েছে। বহু পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও ত্রিপল বিতরণ শুরু করেছেন। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি-মিরিক সড়কেও বড় ধস নেমেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পাথরের চাঁই রাস্তার উপর পড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু হলেও স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, উত্তর সিকিমের ডুংজু এলাকায় তিস্তার জল বেড়ে যাওয়ায় একটি বেলি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পিখোলা ও ফিদাংয়ের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা নেই। সোমবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে অতি ভারী থেকে অতি প্রবল বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আগামী সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, এই বৃষ্টির জেরে নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়লে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে জলমগ্ন হতে পারে। তাই নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?