চুকাউনী খেয়ে বদলে ফেলুন সকালের স্বাদ
প্রতিদিনের সকালের খাবারে একঘেয়েমি চলে আসাটাই স্বাভাবিক। অনেকেই টক দইয়ের সঙ্গে ওট্স, চিয়া সিডস, নানা ফল মিশিয়ে খেয়ে দিন শুরু করেন। স্বাস্থ্যকর ঠিকই, কিন্তু রোজ একই স্বাদ কি আর ভাল লাগে? সেই একঘেয়েমি কাটাতে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন নেপালের জনপ্রিয় ঝাল ঝাল দইয়ের স্যালাড—চুকাউনী।
কীভাবে তৈরি করবেন?
এই খাবার বানাতে বেশি ঝামেলা নেই। প্রথমেই একটু বেশি পরিমাণ টক দই ভালো করে ফেটে নিন। এর মধ্যে দিন স্বাদমতো সৈন্ধব লবণ আর সামান্য জিরে গুঁড়ো। সবটা ভালো করে মিশিয়ে নিন। এখন যোগ করুন সেদ্ধ আলুর টুকরো, কুচোনো পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা আর ধনেপাতা।
অন্যদিকে একটি ছোট পাত্রে গরম করুন সামান্য সর্ষের তেল। তাতে ফোড়ন দিন গোটা জিরে, সর্ষে, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো আর একটু কসৌরি মেথি। এই ফোড়ন ঢেলে দিন দই-আলুর মিশ্রণের উপর। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি আপনার নেপালি চুকাউনী।
স্বাস্থ্যগুণ
অনেকেরই ধারণা, আলু মানেই ক্ষতিকর। কিন্তু তা একেবারেই সত্যি নয়। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। পাশাপাশি আলুতে রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। টক দইয়ের উপস্থিতি এই স্যালাডকে করে তোলে আরও স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে থাকে ‘গুড ব্যাকটেরিয়া’ যা হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এই স্যালাডে ব্যবহৃত হয় কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ আর ধনেপাতা—সবকটাই ভিটামিন সমৃদ্ধ। কাঁচালঙ্কা ভরপুর ভিটামিন সি-তে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। জিরে গুঁড়ো আর হলুদও শরীরের জন্য উপকারী। বিশেষত হলুদে থাকা কারকিউমিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
তেলের ব্যবহার
এই রেসিপিতে খুব সামান্য পরিমাণ তেল ব্যবহার হয়, সেটিও মূলত ফোড়নের জন্য। এতে শরীরের তেমন ক্ষতি হয় না। তবে চাইলে ফোড়নের অংশ বাদও দিতে পারেন। স্বাদ একটু কমে যাবে, কিন্তু স্বাস্থ্যকর দিক থেকে ততটাই ভাল থাকবে।
পরিবেশন
চুকাউনী ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে খেতে পারবেন। আবার শুধু একাই স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায়। হালকা ঝাল-ঝাল, টক-মিষ্টি স্বাদের এই স্যালাড একঘেয়ে ব্রেকফাস্টের এক অভিনব বিকল্প হতে পারে।
নেপালি এই খাবারটি এখন সমাজমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। একবার বানিয়ে দেখুন, টক দইয়ের নতুন এই রূপ আপনাকেও মুগ্ধ করবে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা