ঝড়বৃষ্টিতে বন্ধ চন্দননগরের আলোর ঝলকানি! দুর্ঘটনা এড়াতে খুলে ফেলা হচ্ছে তোরণ 🌧️

ঝড়বৃষ্টিতে বন্ধ চন্দননগরের আলোর ঝলকানি! চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই আলোর উজ্জ্বল রূপ, রঙিন তোরণ আর মানুষের ভিড়। প্রতি বছর এই আলো উৎসব দেখতে হুগলি, নদিয়া, এমনকি কলকাতা থেকেও ছুটে আসেন…

October 29, 2025
1 min read

ঝড়বৃষ্টিতে বন্ধ চন্দননগরের আলোর ঝলকানি!

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই আলোর উজ্জ্বল রূপ, রঙিন তোরণ আর মানুষের ভিড়। প্রতি বছর এই আলো উৎসব দেখতে হুগলি, নদিয়া, এমনকি কলকাতা থেকেও ছুটে আসেন হাজার হাজার দর্শক। কিন্তু এবছর অষ্টমীর সন্ধ্যাতেই আলোর ঝলকানি থেমে গেল— ঝড়-বৃষ্টি আর দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রশাসনের নির্দেশে খুলে ফেলা হচ্ছে বড় বড় তোরণ ও আলোকসজ্জা।


⚡ ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে কড়া প্রশাসন

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির দাপটে বিপর্যয় ঘটে কানাইলালপল্লির পুজোমণ্ডপে। ওই মণ্ডপ ছিল প্রায় ৭০ ফুট উঁচু, সামনে ফাইবারের জগদ্ধাত্রী মূর্তি। হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ায় মণ্ডপটি ভেঙে পড়ে, আহত হন বেশ কয়েকজন দর্শক ও কর্মী।
এর পরেই হুগলি জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ১৮০টি পুজো কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন উঁচু জায়গায় বাঁধা আলোর তোরণ খুলে ফেলে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখে।

পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, মূল উদ্দেশ্য একটাই— আর কোনও দুর্ঘটনা যেন না ঘটে।


🌧️ প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ

প্রশাসনের নির্দেশে ইতিমধ্যেই চন্দননগরের বহু বড় পুজো কমিটি আলোকসজ্জা খুলে ফেলেছে।
জনবহুল এলাকার তোরণগুলো বিশেষভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি, প্রশাসন বাকি আলোকসজ্জাগুলোর ‘স্বাস্থ্যপরীক্ষা’ করতে বলেছে, যাতে কোনও দুর্বল স্ট্রাকচার ঝড়ে ভেঙে না পড়ে।

এক প্রশাসনিক আধিকারিক বলেন — “প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে উৎসব মানে ঝুঁকি নয়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাই এখন আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার।”


📊 চন্দননগরের পুজো নিরাপত্তা সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ

বিষয়প্রশাসনের পদক্ষেপ
মণ্ডপ নিরাপত্তাঅতিরিক্ত বাঁশ ও ফাইবার স্ট্রাকচার পরীক্ষা
আলোকসজ্জাউঁচু তোরণ খুলে ফেলা
বিদ্যুৎ সংযোগবৃষ্টির সময় সাময়িকভাবে বন্ধ
পর্যটক নিয়ন্ত্রণপুলিশের টহল ও ব্যারিকেড বৃদ্ধি
আবহাওয়া সতর্কতাIMD-এর আপডেট অনুযায়ী নির্দেশ জারি

🏮 কানাইলালপল্লির দুর্ঘটনা: এক সতর্কবার্তা

চন্দননগরের কানাইলালপল্লি দুর্ঘটনা অনেককেই নাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মণ্ডপের উচ্চতা অনেক বেশি হওয়ায় হালকা হাওয়াতেই ভেঙে পড়েছে সেটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বড় মণ্ডপ তৈরির আগে স্ট্রাকচারাল সেফটি সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা উচিত — যেমনটি National Disaster Management Authority (NDMA) পরামর্শ দিয়েছে উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে।


🔗 আরও পড়ুন


🌙 উপসংহার

ঝলমলে আলোর শহর চন্দননগরে এবছর উৎসবের রূপ একটু ম্লান হলেও, মানুষের নিরাপত্তাই আসল আলো। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে— উৎসব মানে শুধু আনন্দ নয়, দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *