জাপান সাগরে রাশিয়া-চিন যৌথ ডুবোজাহাজবিরোধী মহড়া!
জাপান সাগরের উত্তাল জলরাশিতে শুরু হয়েছে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অনুশীলন। এক দিকে রাশিয়া, অন্য দিকে চিন—দু’দেশের নৌসেনা একযোগে অংশ নিচ্ছে এক বিশাল ডুবোজাহাজবিরোধী মহড়ায়। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপের প্রেক্ষিতে এই মহড়া শুধুই ‘সামরিক অনুশীলন’ বলে না দেখে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দু’টি পরমাণু অস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে নেমে আমেরিকা যদি সীমা ছাড়ায়, পারমাণবিক যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী। সেই প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের ডুবোজাহাজ মোতায়েনকে অনেকেই দেখছেন পাল্টা হুঁশিয়ারি হিসেবে। আর এর ঠিক পরেই রাশিয়া-চিন মহড়ার সূচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায়।
রাশিয়া এবং চিনের তরফে জানানো হয়েছে, এই যৌথ মহড়া পূর্বপরিকল্পিত। ১ থেকে ৫ অগস্ট পর্যন্ত চলবে ‘মেরিটাইম ইন্টার্যাকশন ২০২৫’ নামের এই মহড়া। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরই এটির প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও বেড়েছে।
রবিবার থেকে মহড়ার ‘ব্যবহারিক পর্ব’ শুরু হয়েছে। জাপান সাগরের বুকে রাশিয়া এবং চিনের যুদ্ধজাহাজ, ডুবোজাহাজ এবং সাবমেরিন রেসকিউ ভেসেল একযোগে নানা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে রাশিয়ার একটি বিশাল ডুবোজাহাজবিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ এবং চিনের অন্তত দুটি ধ্বংসকারী জাহাজ। এ ছাড়াও ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত ডুবোজাহাজ ও সাবমেরিন উদ্ধারকারী চিনা জাহাজ রয়েছে তৎপরতায়।
মূলত ডুবোজাহাজ ধ্বংস, বিমান প্রতিরক্ষা, গুলি চালনা, সমুদ্রপৃষ্ঠে অনুসন্ধান এবং উদ্ধার—এই সমস্ত কার্যকলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও রাশিয়া এবং চিন বারবার দাবি করেছে যে, এই মহড়া পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং কারও বিরুদ্ধে নয়, তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ঘোষণার পরে এর বার্তা যেন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
এই মুহূর্তে রাশিয়া-চিন সম্পর্ক এক গভীর কৌশলগত মৈত্রীর পর্যায়ে রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমি দুনিয়া যখন মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তখন থেকেই বেইজিং রাশিয়ার পাশে। আর সেই থেকে প্রায় নিয়মিতভাবেই চলছে তাদের যৌথ সামরিক মহড়া।
রুশ পার্লামেন্টের এক সদস্যের বক্তব্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তাঁর দাবি, “বিশ্বের যেকোনও মহাসাগরে আমেরিকার থেকে অনেক বেশি ডুবোজাহাজ রয়েছে রাশিয়ার।” পাল্টা চাপ তৈরি করতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তাঁর দেশের পরমাণু ডুবোজাহাজ মোতায়েন হচ্ছে সুনির্দিষ্ট জায়গায়।
এই প্রেক্ষাপটে, রাশিয়া ও চিনের মহড়াকে অনেকেই একপ্রকার কৌশলগত প্রদর্শন বলেই দেখছেন—বিশ্বরাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব ও অবস্থান মজবুত করার অভিপ্রায়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু জাপান সাগরেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং এই অনুশীলনের মাধ্যমে আমেরিকাকেই একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে রাশিয়া এবং চিন। বার্তা খুব স্পষ্ট: তারা প্রস্তুত, প্রয়োজনে জোট বেঁধেই।